সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে বিভিন্ন ‘টেকনোলজি বিষয়ক’ গ্রুপের সাথে যুক্ত আছি অনেক দিন ধরেই। এখন যেহেতু বর্তমানের ক্রেজ ‘স্মার্টফোন’ তাই প্রায়ই বিভিন্ন গ্রুপে সাহায্য মূলক পোষ্ট দেখি ‘আমার বাজেট ১৫ বা ২০ হাজার টাকা, এই বাজেটের মধ্যে কোন স্মার্টফোনটি ভালো হবে?’ আবার অনেকে তাদের চাহিদার কথাও উল্লেখ করে দিয়ে থাকেন, ‘মোবাইলের ফন্ট ক্যামেরা এবং ক্যামেরা ভালো হতে হবে, সব ধরনের গেম খেলব, র‍্যাম অন্তত ১ গিগাবাইট লাগবে। কোনটি কিনব?’ যুগের এই পরিবর্তন আমার বেশ ভালোই লাগে।

কেননা, এখন একটি ডিভাইস কেনার আগে একজন অন্যদের কাছে রিয়েল টাইম রিভিউ পাচ্ছেন যা খুবই প্রয়োজনীয়। তবে কিছুদিন ধরে একটি বিষয় খেয়াল করে দেখলাম, সবাই শক্তিশালী প্রসেসর, ভালো ক্যামেরা এবং বেশি র‍্যামের প্রতিই আগ্রহী! কিন্তু বেশির ভাগ ব্যবহারকারীই স্মার্টফোন কেনার আগে ‘জিপিইউ’ সম্পর্কে খোঁজ নিতে বা জানতে ভুলে যান এবং পরে অনেকেই আফসোস করেন এই বলে যে তাদের মোবাইলে সব ধরণের গেম তারা খেলতে পারছেন না! আর এই সমস্যাটি তাদেরই হয় যারা ‘জিপিইউ’ বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞত। তাই, আজকের এই ছোট্ট রিভিউটি লিখতে বসা।

আপনি নিশ্চয়ই একটি নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে ইন্টারনেট ঘেটে মোবাইলের মধ্যে কত গিগাবাইট র‍্যাম আছে, কত মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে – ইত্যাদি বিষয় জেনে থাকেন? তাহলে, আজ থেকে এরকম মোবাইলের ফিচার ব্রাউজ করার সময় ‘জিপিইউ’ এর ঘরটাও দেখে কিনবেন।

 

সেরা ১০টি জিপিইউ

১। Adreno 330

বর্তমানে সম্ভবত স্মার্টফোনের জন্য সবচাইতে ফাস্টেস্ট জিপিইউ হচ্ছে Adreno 330। এই জিপিইউ ইউনিটটি Sanpdragon 800 সিরিজের প্রসেসরের সাথে ইন-বিল্ট অবস্থায় থাকে। এই জিপিইউটির গতি প্রতিসেকন্ডে 3.6 গিগা-পিক্সেল পর্যন্ত উঠতে সক্ষম। বুঝতেই পারছেন তাহলে, কেন আমি Adreno 330 কে আমার পছন্দের প্রথমে রাখলাম। এই জিপিইউটি ব্যবহার করা হয়েছে এক্সপেরিয়ার জেড আলট্রা ডিভাইসটিতে। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৫ এও ব্যবহার করা হয়েছে Adreno 330।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=GBaDDNZVpGM]

২। SGX544mp3

দুই নম্বর তালিকায় কোন গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিটকে রাখব ভেবে চিন্তিত ছিলাম! অনেক ভাবনা চিন্তার পর দ্বিতীয় অবস্থানের জন্য SGX544mp3 কেই পছন্দ হলো। স্যামসাং এই মাল্টিকোর জিপিইউটি যুক্ত করেছিল exynos 5 octa-এর সাথে। চমৎকার এই জিপিইউটি আপনার গেমিং এক্সপেরিয়েন্স বাড়িয়ে দিতে সক্ষম বহু গুণে!

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=UHaDut-OZGw]

৩। SGX554mp4

SGX554mp4 জিপিইউটির পারফর্মেন্স প্রায় SGX544mp3 জিপিইউ-এর সমানই। মজার কথা হচ্ছে, এই জিপিইউটির কোরের সংখ্যা SGX544mp3 এর চাইতে কম হলেও SGX544mp3 কিছুটা বেশি শক্তিশালী ইউনিট। SGX554mp4 ব্যবহার করা হয়েছে আইপ্যাড ৪-এ অ্যাপলের এ৬ক্স চিপসেটের সাথে।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=kuAfJdNfGBg]

৪। Adreno 320

কোয়ালকমের মতে এই গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক এবং হাই পারফর্মেন্স যুক্ত কোডিং আর্কিটেকচার যার ফলে এটি Adreno 225 এর চাইতে চার গুণ বেশি আউটপুট দিতে সক্ষম। এই গ্র্যাফিকাল ইউনিটটি বেশ কিছু ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়েছে যেমন- নেক্সাস ৪, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৪, এইচটিসি ওয়ান, এক্সপেরিয়া জেড ইত্যাদি ডিভাইস সমূহতে। জেনে রাখা ভালো, প্রায় প্রতিটি ডিভাইসেই এই জিপিইউটির পারফর্মেন্স ভালো তবে সবচাইতে ভালো পারফর্মেন্স এইচটিসি ওয়ান ডিভাইসে।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=IGUC_K50n78]

৫। Mali T604

সর্বপ্রথম এই জিপিইউটি ব্যবহারিত হয়েছিল Exynos 5-এ এবং এটিই arm এর জন্য ব্যবহারিত সর্বপ্রথম মিডগার্ড আর্কিটেকচারের জিপিইউ। পূর্বের অন্যান্য যেকোন মালি’র গ্রাফিক্স প্রসেসর গুলোর তুলনায় এটি বেশ শক্তিশালী এবং কিছু কিছু সাইটে একে পূর্বের তুলনায় ৫ গুণ বেশি শক্তিশালী বলা হয়েছে। এটি গুগলের জনপ্রিয় সিরিজ ‘গুগল ট্যাবলেট নেক্সাস ১০’ ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়েছে।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=9jfWmPVtcbA]

৬। SGX543mp

এটি ৩টি কোর বিশিষ্ট গ্রাফিক্স প্রসেসর। তিন কোর বিশিষ্ট এই জিপিইউটি পূর্বের SGX543mp2 এর চাইতেও চমৎকার আউটপুট দিতে সক্ষম। জিপিইউটি ব্যবহার করা হয়েছিল আইফোন ৫ এ এবং mp2 ভার্সনটি ব্যবহারিত হয়েছিল Iphone 4s ডিভাইসটিতে।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=mQzqtACwwec]

৭। Adreno 305

অ্যাড্রিনো ৩০৫ জিপিইউটি একটি সিঙ্গেল কোর বিশিষ্ট গ্রাফিক্স প্রসেসর। কিন্তু এটি এক কোর বিশিষ্ট গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট হয়েও মিড রেঞ্জ বা লো এন্ডের স্মার্টফোনগুলোতে আপনাকে চমৎকার গেম এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম। মিড এন্ড ডিভাইস যেমন লুমিয়া ৫২০, এইচটিসি ওয়ান এসভি, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৪ মিনি – ইত্যাদি ডিভাইস গুলোতে ব্যবহার করা হয়েছিল এই জিপিইউটি।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=0exq1gfx4dw]

৮। Adreno 225

ইউনিফিল্ড শেডার টেকনোলোজি বিশিষ্ট অ্যাড্রিনো ২২৫ ব্যবহার করা হয়েছে msm8960 চিপসেটে যা ডাইরেক্ট এক্স ৯ (dx9) সমর্থন করে। অ্যাড্রিনো ২২৫ এবং ২২০ মডেল দুটি প্রায় একই কিন্তু এদের ক্লক পারফর্মেন্সে সামান্য কম বেশি রয়েছে। যেখানে, অ্যাড্রিনো ২২৫ জিপিইউটি ৪০০ মেগাহার্জ ক্লক স্পিডে রান করে সেখানে ২২০ রান করে মাত্র ২৬৬ মেগাহার্জ ক্লক স্পিডে। নোকিয়ার লুমিয়া ৯২০ ডিভাইসটিতে এই জিপিইউটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=EjIGIxiZaCQ]

৯। Mali 400

আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রের স্মার্টফোন গুলোতে এই জিপিইউটি ব্যবহার করা হয় কেননা জিপিইউটি তৈরিই করা হয়েছিল বাজেট স্মার্টফোন এবং ট্যাবের ক্ষেত্রে। সত্য বলতে কিছু ক্যাসুয়াল গেম রান করতে এই গ্রাফিক্স প্রসেসরটির জুড়ি নেই। সিম্ফোনি এবং ওয়ালটন সহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডেড স্মার্টফোনেও এই জিপিইউটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

[youtube http://www.youtube.com/watch?v=3OX9cLKDEdo]

১০। Adreno 220

MSM8260 এবং MSM8660 চিপসেটে ইন-বিল্ট জিপিইউ হিসেবে ব্যবহারিত এই অ্যাড্রিনো ২২০ এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এটি সেকেন্ডে 88m ট্রায়াঙ্গেল পর্যন্ত আউটপুট দিতে সক্ষম। এই গ্রাফিক্স প্রোসেসরটিও মালি ৪০০ এর মত একটি বাজেট গ্রাফিক্স প্রসেসর এবং এটি অ্যাড্রিনো ২০৫ এর চাইতে প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী। [youtube http://www.youtube.com/watch?v=Ca9DRQE7700]নোটঃ যখনই কোন জিপিইউ এর নামের শেষে MP লেখাটি দেখবেন, বুঝে নিবেন যে জিপিইউটি সিঙ্গেল কোরের। MP2 থাকলে ডুয়াল কোর, এবং MP3 এবং MP4 যথাক্রমে তিনটি কোর এবং কোয়াড কোর বিশিষ্ট।

শেষ কথাঃ

আমার মতে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের রিভিউয়ে আমি যদি এর হার্ডওয়্যার সম্পর্কে কথা বলতাম তবে অনেকেই বুঝতে পারতেন না, তাই ইউটিউব ঘেটে ঘেটে এগুলোর ভিডিও রিভিউ শেয়ার করলাম যাতে করে আপনারা সহজেই গ্রাফিক্স প্রসেসরগুলোর ক্যাপাবিলিটি বুঝতে পারেন। আর এটি আমার পছন্দ করা লিস্ট তাই অন্য যে কেউ দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন, এনিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আপনাদের জন্য বলবো, যে কোন ধরণের গ্যাজেট কেনার আগে দয়া করে সব কিছু বুঝে কিনবেন যাতে করে কেনার দুদিনের মাথায় আপনাকে আফসোস করে বিক্রয় ডটকমের শরণাপন্ন না হতে হয়। ভালো থাকবেন সবাই।