আজকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ টপিকস হচ্ছে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। আজকে আমরা জানবো কিভাবে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কাজ করে। ইতিমধ্যেই আমি আমার বিভিন্ন পোস্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার উপকারিতা এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছি। তাই প্রত্যেকের অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বিশেষ প্রয়োজনীয়—এবং এটি করার সবচাইতে সহজ রাস্তা হচ্ছে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা। সত্যি কথা বলতে কঠিন পাসওয়ার্ড যেমন একদিকে হ্যাক হওয়া মুশকিল ঠিক তেমনি মনে রাখাও খুব মুশকিল। আর এই মনে রাখার জটিলতার অবসান করতেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার গুলো কাজ করে থাকে। তো বন্ধুরা, আজকের এই পোস্টে আমরা বিভিন্ন প্রকারের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সম্পর্কে জানবো, এবং সাথে জেনে নেবো যে—কোনটি আপনার জন্য বেস্ট চয়েজ হতে পারে।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং (4)

 

আপনার অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখার জন্য অনেক ধরনের ম্যানেজার রয়েছে। এদের মধ্যে কোন গুলো আপনার ব্রাউজারের পাসওয়ার্ড লিস্ট সংরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। এদের মধ্যে কোন গুলো মাল্টি ডিভাইজ এবং প্লাটফর্মের মধ্যে পাসওয়ার্ড শেয়ার করার সিস্টেম হিসেবে কাজ করে থাকে। কিন্তু প্রত্যেকটি ম্যানেজারই কিছু কমন কাজ করে থাকে, যেমন- তারা সকল পাসওয়ার্ড সংরক্ষিত করে রাখে, তারা যেকোনো লগইন ফর্মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পূরণ করে থাকে, এবং এরা ডাটাবেজে পাসওয়ার্ড ইনক্রিপটেড করে রাখে। বিভিন্ন প্রকারের ম্যানেজাররা বিভিন্ন সিস্টেমে এবং বিভিন্ন অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে সাধারনত পাসওয়ার্ড ইনক্রিপটেড করে রাখে।

ইনক্রিপটেড পাসওয়ার্ড

আপনার ব্রাউজারও পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখতে পারে, কিন্তু তারা সবসময়ই খুব যে নিরাপদ হতে পারে তা কিন্তু নয়। আলাদা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার-গুলো ব্যাবহারের সবচাইতে সুবিধা হলো—এরা আপনার সকল পাসওয়ার্ডকে একটি প্রধান পাসওয়ার্ডের পেছনে লুকিয়ে রাখে এবং একটি ডাটাবেজে রাখে। হ্যাঁ, শুধু এক জায়গায় আপনার পাসওয়ার্ড গুলো টেক্সট আকারে সংরক্ষিত থাকা সুরক্ষিত ব্যাপার নয়। তাই এই ম্যানেজার গুলো আপনার পাসওয়ার্ডকে ইনক্রিপটেড করে রাখে—যা সত্যিই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

ইনক্রিপশন হলো কোন গাণিতিক ঝামেলা ব্যবহার করে আপনার ডাটা গুলোকে এলোমেলো করে রাখার একটি পদ্ধতি। একটি “কী” ব্যবহার করে প্লেন টেক্সট পাসওয়ার্ড গুলোকে বারবার অগোছালো কিছু ক্রমে পরিণত করা হয়ে থাকে। এই ক্রমটি কতটা অগোছালো হবে বা কতটা নিরাপদ হবে তা নির্ভর করে এর কী সাইজের উপর। ল্যেম্যানের শর্তাবলী অনুসারে, যতোবেশি “কী সাইজ” হবে, ইনক্রিপশনে ততোবেশি নিরাপত্তা থাকবে। কেনোনা কী যতো কঠিন করা যাবে এর ইনক্রিপশন ফলাফলও ততোবেশি জটিল করা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন অ্যালগোরিদমের উপর নির্ভর করে, ইনক্রিপশন করার সময় বিভিন্ন সাইজের কী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই “কী” গুলো প্রচণ্ড অগোছালো আউটপুট প্রদান করে থাকে আর এই পদ্ধতিকে হ্যাস বলা হয়ে থাকে। ইনক্রিপশন নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার পূর্বের লেখা আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। সেখানে ইনক্রিপশন সম্পর্কে অনেক সহজভাবে ধারণা পেয়ে যাবেন।

লোকাল পাসওয়ার্ড সিন্দুক

পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং (1)

 

পাসওয়ার্ড সুরিক্ষিত রাখার সবচাইতে ভালো উপায় হলো কাওকে না বলা।

আপনি যদি আপনার পাসওয়ার্ড কোথাও এলোমেলো ভাবে সেভ করে না রাখতে চান বা আপনি

যদি হার্ডড্রাইভেও পাসওয়ার্ড সরাসরি জমা না রাখতে চান তবে লোকাল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার আপনার জন্য ভালো পছন্দ হতে পারে।

আমার জানা “KeePass” নামক একটি লোকাল পাসওয়ার্ড সেফ রয়েছে।

এটি উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পাসওয়ার্ড সংরক্ষনকারী সফটওয়্যার।

এটি আপনার সকল পাসওয়ার্ড সংরক্ষিত করার জন্য অনেক অপশন প্রদান করে থাকে।

এটি আপনার ইমেইল পাসওয়ার্ড, ওয়েবসাইট পাসওয়ার্ড, অনলাইন যেকোনো অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড

ইত্যাদি গুলোকে একত্রে একটি ডাটাবেজে সংরক্ষিত করে রাখে—এবং সকল পাসওয়ার্ড গুলোকে একটি

মাস্টার পাসওয়ার্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা প্রদান করে থাকে।

আপনার সকল পাসওয়ার্ড গুলোকে স্ট্যান্ডার্ড অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে ইনক্রিপটেড করিয়ে রাখা হয়। আবার আপনি চাইলে কোন মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার ছাড়ায় শুধু কী ফাইল ব্যাবহারে আপনার সংরক্ষিত রাখা পাসওয়ার্ড গুলো অ্যাক্সেস করা সম্ভব হবে। আপনার কী ফাইলটিকে কোন আলাদা ড্রাইভে বা কোন পোর্টআবল ইউএসবি ড্রাইভে সংরক্ষিত রাখতে পারেন এবং পাসওয়ার্ড গুলো অ্যাক্সেস করার সময় মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যাবহারের পরিবর্তে কী ফাইল ব্যবহার করতে পারেন।

কীপাস যেমন একদিকে সুরক্ষিত এবং নিরাপদ তেমনি এর কিছু অসুবিধার দিকও রয়েছে।

অসুবিধা হচ্ছে আপনি যদি ভুল ক্রমেও কী ফাইল বা মাস্টার পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন, তবে বন্ধু আপনার কপালে সত্যিই মন্দ রয়েছে।

আপনি আপনার সকল পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলবেন এবং আপনাকে প্রত্যেকটি পাসওয়ার্ড নতুন করে প্রবেশ করাতে হবে।

আপনি যদি আপনার পাসওয়ার্ড গুলোকে ফোন বা ট্যাবলেটে অ্যাক্সেস করতে চান তবে আপনাকে তা মেন্যুয়ালি করে নিতে হবে

এবং আপনাকে ক্লাউড সার্ভিস যেমন ড্রপবক্স ব্যবহার করতে হবে। সুতরাং এখানে আপনার ড্রপবক্সকে ভরসা করতে হবে।

লোকাল ম্যানেজার গুলো সত্যিই আপনার পাসওয়ার্ড গুলো অনেক নিরাপদে সংরক্ষন করতে সক্ষম হয়।

কিন্তু এই ম্যানেজার গুলো যেকোনো ডিভাইজে একসাথে ব্যবহার করার জন্য উন্নত নয় তাই

এই ম্যানেজার গুলো ব্যাবহারে আপনি পোর্টাবিলিটি হারাতে পারেন।

মাল্টিপোল ডিভাজের জন্য পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং সিস্টেম

পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং (3)

 

আপনি যদি কোন একটি ডিভাইজ ব্যবহার করেন কম্পিউটিং করার জন্য তবে লোকাল

পাসওয়ার্ড সংরক্ষনকারী সফটওয়্যার গুলো আপনার জন্য ভালো হতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি একসাথে অনেক ডিভাইজ ব্যবহার করেন, তবে আপনার প্রয়োজন পড়বে “1password” নামের এই সফটওয়্যারটির।

মনে করুন আপনি পিসিতে ফেসবুক ব্যবহার করছেন, ফোনে অ্যামাজন শপিং করছেন এবং

ট্যাবলেটে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করছেন, তবে আপনার এমন একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার প্রয়োজন

পড়বে যা সকল ডিভাইজ গুলোতে কাজ করবে এবং আপনার সকল পাসওয়ার্ড গুলো ব্যবহার করার ক্ষমতা প্রদান করবে।

1password হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাল্টিপোল ডিভাইজের মধ্যে আপনার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কিংবা

ড্রপবক্স ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং করতে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু এটি কীপাসের মতো আপনাকে বহু

 

ইনক্রিপশন অ্যালগোরিদম ব্যাবহারের সুবিধা দিয়ে থাকে না—এবং আপনি “কী ফাইল” ব্যবহার করে লগইন করার সুবিধাও পাবেন না।

কিন্তু এটি লোকাল ম্যানেজার গুলোর অনেক ডাউন দিক গুলো সমাধান করেছে।

যেমন আপনি সহজেই বহু ডিভাইজের মধ্যে আপনার সকল পাসওয়ার্ড গুলো সিঙ্ক করতে পারবেন।

আপনার পাসওয়ার্ড গুলো মাল্টিপোল ডিভাইজের মধ্যে সিঙ্কিং করার জন্য আপনাকে ড্রপবক্সের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।

যদি আপনি সত্যিই অনেক বেশি নিরাপত্তা সচেতনকারী হয়ে থাকেন তবে, আপনার লোকাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং করতে পারেন।

আর এখানেও—মাস্টার পাসওয়ার্ড হারিয়ে কোন প্রকারের ডাটা ফিরে পাবার আশা না করায় ভালো।

আপনার পাসওয়ার্ড গুলো সার্ভারে সংরক্ষিত রাখুন

পাসওয়ার্ড সিঙ্কিং (2)

 

আপনার সকল পাসওয়ার্ড গুলোকে কোন ক্লাউডে সংরক্ষিত করে রাখার জন্য সেই কোম্পানির প্রতি আপনার আস্থা থাকার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও অনেক ইউজাররা এই ব্যাপারে মাথা ঘামিয়ে থাকেন না। যাই হোক, অনেক বড় ধরনের এক হ্যাকার অ্যাটাক ঘটে যাবার পরেও অনেক ব্যবহারকারী এখনো “LastPass” ব্যবহার করে থাকেন (যেমন আমি নিজেও ? )।

LastPass আপনার পাসওয়ার্ডের একটি ইনক্রিপটেড কপি ক্লাউডে সংরক্ষিত রাখে—এবং এই পাসওয়ার্ড গুলো প্রায় আপনার দেখা সকল প্রকার ব্রাউজারে এবং ডিভাইজে ব্যবহার করা যায়। তাদের কিছু স্পেশাল ফিচার ব্যবহার করার জন্য আপনাকে প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ নিতে হবে তবে বেসিকভাবে এই পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটি ফ্রী।

আপনার ডিভাইজটি সকল প্রকারের ইনক্রিপশন এবং ডিক্রিপশন করে থাকে—এবং মাস্টার পাসওয়ার্ডটি সার্ভারে সংরক্ষিত থাকেনা। আপনি যদি ওয়েবে অ্যাক্সেস করতে না চান তবে আপনার ডিভাইজে ক্যাশ থাকা ডাটা থেকেও আপনি পাসওয়ার্ড গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া অত্যাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে টু ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশান সিস্টেম।

যদিও LastPass হ্যাকারদের কবলে পড়েছিলো কিন্তু তারপরেও মাস্টার পাসওয়ার্ড এবং  টু ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশান একত্রে ব্যাবহারের ফলে আপনার অ্যাকাউন্ট এবং জমা করা পাসওয়ার্ড গুলো নিরাপদে থাকতে পারে। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, আপনি আপনার মাস্টার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও তা পরবর্তীতে যেকোনো সময় রিকভার করতে পারবেন।

আপনার সত্যিই কি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?

যদি আপনার মস্তিস্ক কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ না হয়ে থাকে তবে অবশ্যই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আমাদের প্রতিনিয়ত শতশত অ্যাকাউন্ট সামলাতে হয়—এবং সুরক্ষার জন্য প্রত্যেকটি অ্যাকাউন্টে আলাদা

আলদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

তো এতো পাসওয়ার্ড একজন সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে মনে রাখা একদমই সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার গুলো আপনাকে নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি অনেক সুবিধা প্রদান করে থাকে।

যেমন- সকল পাসওয়ার্ড গুলোকে একটি সিঙ্গেল ডাটাবেজে সংরক্ষন করে রাখে, সকল পাসওয়ার্ড মনে রাখার প্রয়োজন পড়ে না!

মাস্টার পাসওয়ার্ড জানা থাকলেই হয় এবং আপনার পাসওয়ার্ড গুলো নিরাপদে সংরক্ষন করা হয়।

তাছাড়া কোন অনলাইন ফর্মে আপনার পাসওয়ার্ড প্রবেশ করানোর প্রয়োজন পড়ে না, এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে থাকে।

তো আপনার পছন্দের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কোনটি হতে পারে? এর সঠিক উত্তর খুঁজে পাবার জন্য

যেকোনো একটি ব্যবহার করতে আরম্ভ করে দিন—এবং লক্ষ্য করুন কোনটি আপনার বেশি কাজের।

এদের মধ্যে অনেক সফটওয়্যার গুলো প্রিমিয়াম, কিন্তু এদের প্রায় সবারই ট্রায়াল ভার্সন রয়েছে।

 

তাই আগে ব্যবহার করে দেখুন এবং পড়ে চাইলে কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

শেষ কথা

আশা করছি আজকের পোস্টটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল—এবং বিশেষ অনুরোধে এই পোস্টটি করা। তো আপনি কোন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করছেন? কেন করছেন? আপনার মতামত আমাদের নিচে লিখে জানান। আর পোস্টটি শেয়ার করে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ ?