আপনারা সকলে সাধারন স্ক্যানিং এবং ৩ডি প্রিন্টিং সম্পর্কে তো অবশ্যয় জানেন এবং শুনেছেন।

কিন্তু পেছনের কয়েক বছর থেকে ৩ডি স্ক্যানিং এবং ৩ডি প্রিন্টিং এর ব্যবহার বেড়ে চলছে এবং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

তাই আজকের পোস্টে আমি আলোচনা করতে চলেছি থ্রীডি স্ক্যানিং এবং প্রিন্টিং কীভাবে কাজ করে

এবং কোথায় কোথায় ব্যবহার যোগ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। তো চলুন অনেক কিছু জেনে নেওয়া যাক।

৩ডি স্ক্যানিং

২ডি স্ক্যানারে কোন কিছু স্ক্যান করার জন্য যেমন কাগজ স্ক্যান করার জন্য সেটিকে স্ক্যানারের উপর রাখতে হয়।

এরপর স্ক্যানার থেকে একটি লাইট বিম আসে এবং একটি প্রতিবিম্ব তৈরি করার মাধ্যমে ২ডি স্ক্যানার কাগজটি স্ক্যান করে নেয়।

কিন্তু থ্রীডি স্ক্যানিং এ কোন কাগজ বা ডকুমেন্টের স্ক্যান করা হয়না। বরং কোন অবজেক্টের স্ক্যানিং করা হয়।

অবজেক্ট মানে যেকোনো জিনিষ হতে পারে যেমন ধরুন আমি। যদি আপনি আমাকে স্ক্যান করতে চান এবং

আমার একটি থ্রীডি ইমেজ তৈরি করতে চান তবে আপনার কাছে একটি ৩ডি স্ক্যানার থাকার বিশেষ প্রয়োজন পড়বে।

বিভিন্ন ৩ডি স্ক্যানার বিভিন্ন টেকনিক কাজে লাগিয়ে কোন অবজেক্ট স্ক্যান করে থাকে এবং

অবজেক্টির একদম সেম টু সেম থ্রীডি ইমেজ তৈরি করে। যা আপনি পড়ে প্রিন্ট করতে পারবেন,

কোন ৩ডি লেআউটে ব্যবহার করতে পারবেন ইত্যাদি। ৩ডি স্ক্যানার সবচেয়ে কমন টেকনিক

যেটি ব্যবহার করে থাকে তা হলো লেজার নির্ভর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে স্ক্যানার অনেকগুলো লেজার বিম ছুড়ে মারে টার্গেটের দিকে।

এবং লেজার বিম গুলো টার্গেটের গায়ে ধাক্কা লেগে আবার ফিরে আসে।

এবার স্ক্যানার লেজার বিম গুলো ফেরত আসার সময়ের উপর নির্ভর করে কোন অবজেক্ট কতটা দূরে রয়েছে, অবজেক্টটির উচ্চতা,

অবজেক্টটির গভীরতা, অবজেক্টটিতে কোন জিনিষ কতটা বেড় হয়ে রয়েছে কোনটি কতটা ভেতরে রয়েছে ইত্যাদি নির্ণয় করে ফেলে।

এখন মনে করুন আপনি আমার ৩ডি স্ক্যানিং করছেন। তবে স্ক্যানার প্রথমে আমার দিকে অনেক গুলো লেজার বিম ছুড়ে মারবে।

এখন মনে করুন আমার ফেসের সবচাইতে সামনে কি রয়েছে? সবচাইতে সামনে রয়েছে আমার নাক।

তো কিছু বিম নাকে পড়বে এবং তা আবার স্ক্যানারের কাছে ফিরে যাবে। তো স্ক্যানার বুঝে যাবে যে, অবজেক্টির এই অংশটি উপরে বেড় হয়ে রয়েছে।

এবার আরো কিছু বিম আমার গালে পড়বে, স্ক্যানার মনে করবে এটি একটু ভেতরে রয়েছে এবং

যখন আমার গলা থেকে বিম গুলো ফেরত যাবে তখন স্ক্যানার বুঝতে পারবে যে, এই জিনিসটি আরো ভেতরে রয়েছে।

তো এভাবেই স্ক্যানার একটি সম্পূর্ণ স্ক্যানিং ইমেজ তৈরি করে দিয়ে দেবে।

বন্ধুরা ৩ডি স্ক্যানারে লেজার বিম ব্যবহার করা ছাড়াও সাধারন ২ ক্যামেরা লেআউট অথবা

৩ ক্যামেরা লেআউট ব্যবহার করে স্ক্যানিং করা হয়ে থাকে। কোন অবজেক্ট যখন

স্ক্যানারের সামনে রাখা হয় তখন স্ক্যানার অনেক পাতলা একটি ফিল্ম লাইট অবজেক্টের দিকে ছুড়ে মারে এবং

অবজেক্টটির চারিদিকে অবস্থিত ক্যামেরা গুলো অবজেক্টটির দূরত্ব, গভীরতা, উচ্চতা ইত্যাদি ক্যাপচার করে নেয়।

এবং পরবর্তীতে একটি সম্পূর্ণ ৩ডি ইমেজ তৈরি করে ফেলে। (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা WWW যেভাবে কাজ সম্পন্ন করে?)

৩ডি প্রিন্টিং

৩ডি প্রিন্টিং

 

বন্ধুরা কোন অবজেক্ট ৩ডি স্ক্যান করার পড়ে সামনের স্টেপটি হলো সেই অবজেক্টটির ৩ডি প্রিন্টিং করা।

সাধারন প্রিন্টারে দেখা যায় কোন কালি দিয়ে হয় বা কোন টোনার ব্যবহার করা হয়।

এবং কাগজের উপর তা চেপে সাধারন প্রিন্টিং সম্পূর্ণ হয়ে থাকে। কিন্তু থ্রীডি প্রিন্টিং এ কোন কাগজকে প্রিন্ট করা হয়না,

বরং কোন অবজেক্টকে প্রিন্ট করা হয়। তো আমাদের কাছে এমন কোন জিনিসের প্রয়োজন যার সাহায্যে একটি থ্রীডি স্ট্র্যাকচার বানানো যায়।

আজকের দিনে প্রাপ্য সবচেয়ে সস্তা, সবচেয়ে হালকা, সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিষ হলো প্ল্যাস্টিক। তাই ৩ডি প্রিন্টারে সাধারন কালির জায়গায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে প্ল্যাস্টিক তার। প্রিন্টারে প্ল্যাস্টিক তারের একটি রোল থাকে এবং তা গলে গিয়ে কোন অবজেক্ট প্রিন্ট করার কাজে লাগানো হয়ে থাকে।

এখন আপনি কি প্রিন্ট করবেন তার লেআউট আপনি চাইলে নিজেই তৈরি করতে পারবেন। যদি আপনার কাছে থ্রীডি ডিজাইন করার কোন সফটওয়্যার থাকে বা যদি আপনি ডিজাইন করতে পারেন তবে আপনি ইচ্ছা মতো থ্রীডি স্ট্র্যাকচার বানাতে পারেন। অথবা আপনি যদি কোন অবজেক্ট থ্রীডি স্ক্যানিং করেন তবে আপনি সেই স্ক্যানিং কেও থ্রীডি প্রিন্ট করতে পারবেন।

চলুন এখন জেনে নেয় প্রিন্টিং কীভাবে কাজ করে। দেখুন থ্রীডি প্রিন্টার বিভিন্ন মাপের হয়ে থাকে। কোন গুলো এতো ছোট হয়ে থাকে যা সহজে আপনার পকেটে এঁটে যেতে পারে আবার কিছু প্রিন্টার আপনার ঘরের সমানও বড় হতে পারে। আপনি কতবড় উচ্চতার অবজেক্ট প্রিন্ট করতে চান তার হিসেবে বিভিন্ন সাইজের প্রিন্টার ব্যবহার করতে পারেন। থ্রীডি প্রিন্টারে কোন অবজেক্ট লেয়ার বাই লেয়ার প্রিন্ট করা হয়ে থাকে। প্রথমে এক লেয়ার ছাপা হলো তারপরে আরেক লেয়ার ইত্যাদি করে সম্পূর্ণ অবজেক্ট প্রিন্ট করা হয়ে থাকে। তবে প্রিন্ট করার সময় আপনি কিছু কাস্টমাইজেশনও করতে পারবেন। যেমন আপনি চাইলে অবজেক্টটির কালার পরিবর্তন করতে পারবেন আপনি চাইলে অবজেক্টটিকে পাতলা বানানোর জন্য এর ভেতরে ফাঁপা রাখতে পারেন আবার ভেতরটা সম্পূর্ণ ভরাটও করতে পারবেন।

৩ডি প্রিন্টিং আজকের দিনে অনেক কমন হয়ে যাচ্ছে এবং পেছনের কয়েক বছরে এর দামও অনেক কমে গেছে এবং আজকের দিনে আমরা বহুত জায়গাতে এই ব্যবহার করে থাকি। বন্ধুরা কিছু কিছু ৩ডি প্রিন্টারের ভেতরে ৩ডি স্ক্যানার ইনবিল্ড ভাবে থাকে। অর্থাৎ প্রিন্টারের ভেতরই একটি স্ক্যানারও লাগানো থাকে। মনে করুন আপনি কোন অবজেক্ট প্রিন্টারের ভেতর রাখলেন এবং কম্পিউটারে একটি বাটন প্রেস করলেন। তখন প্রিন্টারের স্ক্যানার অবজেক্টটি স্ক্যান করে নেবে এর পড়ে আরেকটি বাটন প্রেস করলে সেই স্ক্যান করা অবজেক্টটি প্রিন্ট হয়ে বেড় হয়ে আসবে। অর্থাৎ আপনার হাতে যে জিনিসটি মাত্র একটি ছিল, তা প্রিন্ট হয়ে দুইটি হয়ে গেলো।

৩ডি প্রিন্টিং এর ব্যবহার

 

আজকের দিনে ৩ডি প্রিন্টিং দিনদিন অত্যন্ত বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বিভিন্ন অ্যার্কলজিস্ট যারা বিভিন্ন জায়গা খনন করে পুরাতন কোন পাথর বা সভ্যতা বেড় করে তারা সেটির একটি লাইভ প্রিভিউ করতে চাই, তাই তারা সেখানে ৩ডি প্রিন্টিং ব্যবহার করতে পারে। আবার অনেক ইঞ্জিনিয়ার তাদের বিল্ডিংস এর আগাম একটি প্রিভিউ তৈরি করার জন্য ৩ডি প্রিন্টিং করে থাকে।

তাছাড়া আপনার ঘরের কাজেও আপনি ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারেন অনেক ক্ষেত্রে। মনে করুন আপনার একটি স্ক্র্যু প্রয়োজন, এবং সেটি অনেক দ্রুত প্রয়োজন মানে মার্কেটে গিয়ে কিনে নিয়ে আসার মতো সময় আপনার কাছে নেই। তো এই অবস্থায় আপনি সহজেই থ্রীডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে আরেকটি হুবহু স্ক্র্যু প্রিন্ট করে নিতে পারেন। আবার আপনি কোন চামুচ প্রিন্ট করতে পারেন বা কোন প্লেটও চাইলে প্রিন্ট করতে পারেন। আপনার সামনে হুবহু আরেকটি অবজেক্ট চলে আসবে তাও আবার অলমোস্ট ইনস্ট্যান্ট। আপনি যেকোনো জিনিষ প্রিন্ট করতে পারেন। সত্যি বলতে এর ব্যাবহারের কল্পনা অফুরন্ত।

আজকাল মেডিক্যালে অনেক যন্ত্রপাতি ৩ডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে কাজে নেওয়া হয়ে থাকে। কেনোনা বন্ধুরা এটি একটি সহজ প্রসেস। আপনি যদি কোন মেটালিক অবজেক্ট তৈরি করতে চান তবে সেটি অনেক কষ্টের একটি প্রসেস হবে। এবং আপনাকে অনেক উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করতে হবে, যেটা বেশিরভাগ সময়ই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু এখানে যেহেতু প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাই এটি নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া হয়ে যায়।

শুধু থ্রীডি প্রিন্টার নয় বন্ধুরা, ৩ডি কলমও পাওয়া যায় আজকাল। হ্যাঁ, আপনি একদম ঠিক শুনছেন। একটি কলম দিয়ে যেকোনো ৩ডি অবজেক্ট বানানো যায়। সেখানেও কালির বদলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে প্ল্যাস্টিক তারের রোল। এবং কলমের নিবে সেই প্ল্যাস্টিক তারকে উত্তপ্ত করে কোন অবজেক্টটে পরিণত করা হয়ে থাকে। এই গলিত প্ল্যাস্টিক একদম বেশি গলাও হয়ে থাকে না আবার কমও গলা নয়। একটি নির্দিষ্ট গলিত অবস্থায় এটি যেকোনো অবজেক্টটের রুপ ধারণ করতে পারে।

শেষ কথা

৩ডি স্ক্যানিং এবং ৩ডি প্রিন্টিং অত্যন্ত সহজ এবং বুদ্ধিমান প্রযুক্তির উপর নির্ভর। আর আশা করছি এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ করার মূলমন্ত্র গুলো এতোক্ষণে আপনার মুখস্ত হয়ে গেছে। দিনের পরে দিন এই প্রযুক্তি অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং হতে পারে সামনের কয়েক বছরে এর দাম আরো অনেক কমে যাবে এবং হতে পারে আপনার ঘরেও থাকতে পারে একটি ৩ডি প্রিন্টার। ৩ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে আপনি কি কি অবজেক্ট বানাতে চান তা নিচে কামেন্টে আমাকে জানাতে পারেন। এবং পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ ?