অনলাইন  ক্লাসিফাইড অ্যাড এখন প্রযুক্তি বিজ্ঞাপন এর অন্য এক মাত্রা যুক্ত করে দিয়েছে। ক্লাসিফাইড অ্যাড এখন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম অথবা নিত্যনতুন ওয়েবসাইট এর এক বিশেষ ইনকাম সোর্স। অনলাইন  ক্লাসিফাইড অ্যাড এক নতুন সম্মভনার নাম। প্রতিদিনের সংবাদপত্র খুললে নির্ধারিত কয়েকটি পাতায় দেখা যায় সারিবদ্ধ ছোট ছোট বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনগুলোর কোনোটি চাকরি প্রদানের, কোনোটি হারানো বিজ্ঞপ্তি। আবার এর মধ্যে পাত্র-পাত্রীর সন্ধান চেয়েও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সারিবদ্ধ আকারে ছাপানো এই বিজ্ঞাপনগুলোই ক্লাসিফাইড অ্যাড হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সাধারণত বিভিন্ন ‘ক্লাস’ বা শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিগুলো ছাপানো হয় বলেই এগুলো ক্লাসিফাইড অ্যাড হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাস বলে, বিশ্বের সর্বপ্রথম ক্লাসিফাইড অ্যাড প্রকাশিত হয় ১৭০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন নিউজ লেটারে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই ক্লাসিফাইড অ্যাডের মাধ্যমেই আধুনিক বিজ্ঞাপন প্রকাশের প্রথম ধারণা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সংবাদপত্রের বিকাশের সাথে সাথে ক্লাসিফাইড অ্যাডের ধারণার প্রসার হয়।

আধুনিক যুগে, বিশেষ করে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঠাঁই পেয়েছে ক্লাসিফাইড অ্যাড । পরবর্তীতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ক্লাসিফাইড অ্যাডের ওয়েবসাইট। বিশ্বের সর্বপ্রথম ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইট হিসেবে নাম উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেইগসলিস্ট যা কিনা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটও বটে। উত্তর আমেরিকা থেকে এ ওয়েবসাইটটি সবচেয়ে বেশিবার ব্রাউজ করা হয়।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাসিফাইড ইন্টেলিজেন্স এর সমীক্ষা অনুযায়ী, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই অনলাইন ক্লাসিফাইড অ্যাডের বাজারের আকার আনুমানিক ১৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইট হিসেবে যাত্রা শুরু করে সেলবাজার ডট কম, পরবর্তীতে এটি নাম পরিবর্তন করে এখন এখানেই ডট কম নামে পরিচিত। যদিও পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটের যাত্রা বাংলাদেশে অনেক পরে শুরু হয়েছে, তবে বাজার সম্ভাবনায় বাংলাদেশ কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।

ক্লাসিফাইড অ্যাড

ক্লাসিফাইড অ্যাড

ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইট ব্যবহারের অনেক সুযোগ ও সুবিধা রয়েছে। কোনো সামগ্রী বিক্রি করতে হলে তাৎক্ষণিক তার ছবি তুলে পণ্য বিবরণী এবং কাঙ্ক্ষিত মূল্য জানিয়ে দিয়ে আপলোড করে দিলেই উৎসাহী ক্রেতারা তা দেখে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। বনিবনা হয়ে গেলেই ক্রেতা বিক্রেতার কাছে থেকে পণ্যটি নিয়ে নিতে পারবেন।

গত ৩ বছরে বাংলাদেশে ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সময়ে গড়পরতায় বাংলাদেশি ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটগুলোর প্রত্যেকটিতে ৩ লাখের বেশি সক্রিয় বিজ্ঞাপন রয়েছে। নাম অজ্ঞাত রাখার সুযোগ থাকায় নারীরাও ক্লাসিফাইড অ্যাড আপলোড করায় সক্রিয় হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় পুরানো জিনিস বিক্রি করে টাকা উপার্জনের একটি সুবিধাজনক মাধ্যমে পরিণত হয়েছে ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটগুলো।

বাংলাদেশে ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটের বিবর্তন একেবারে শুরু থেকে দেখছেন এখানেই ডট কম এ ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আরিল্ড ক্লোক্কারহৌগ। তিনি জানান, ‘গত কয়েক বছরে আমরা সবাইকে বোঝাতে পেরেছি আপনার পাশেই হয়তো কেউ আছে যে আপনার অব্যবহৃত পণ্যটি কিনে নিবে যদি এটি অনলাইনে পোস্ট করা হয়।

আমরা এক্ষেত্রে সফল হয়েছি। বাংলাদেশে বেশ অনেকগুলো ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইট কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বেশ ভালো করছে। ক্লাসিফাইড ওয়েবসাইটগুলোতে যেমন পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো খুব সহজেই বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে, তেমনি প্রয়োজনভেদে প্রচুর মানুষ সেই জিনিসগুলো কিনেও ফেলছে। এর ফলে যেমন সাশ্রয় হয়, আবার বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের পূন:ব্যবহারও নিশ্চিত হয়। এভাবে অনলাইনে কেনা-বেচা করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।’