আমি ধরে নিচ্ছি তোমার নাম হুকুশ পাকুশ। তুমি সারারাত ফোঁস ফোঁস করে ঘুমাও আর সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে তোমার যখন মনে হয় তুমি প্রোগ্রামিং জানো না তখন তোমার খুব মন খরাপ হয়। আর তারপর তুমি হুপুশ হাপুশ করে কান্নাকাটি করো, আর ভাবো যে তোমাকে দিয়ে কখখনো প্রোগ্রামিং হবে না। আমার খুব মন খারাপ হয় তোমার কান্নাকাটি দেখে সেইজন্য আমি তোমার জন্য এই টিউটোরিয়ালটা লিখছি।
কিন্তু হুকুশ পাকুশ কেন প্রোগ্রামিং করবে?

তুমি কি হ্যারি পটার দেখেছো হুকুশ পাকুশ? ধরো, যখন হ্যারি পটার আলোহমোরা বলে – তখন ঠুশ করে তালা খুলে যায়? উইংগারদিয়াম লেভিওসা বললে হাতি উড়তে থাকে?

প্রোগ্রামিং অনেকটা ওরকম। তুমি যখন প্রোগ্রামিং শিখে যাবে, তখন এমন অনেক কিছু করতে পারবে তুমি, যেগুলো অন্য মানুষগুলো কখনো কল্পনাও করতে পারবে না করার। যেমন ধরো তোমাকে যদি আমি বলি আমাকে এক থেকে এক কোটির মধ্যে সবগুলো মৌলিক সংখ্যা বের করে দাও না প্লিজ, তুমি সারা জীবন বসে বসে হাতে হিসেব করে শেষ করতে পারবে না। কিন্তু তুমি যদি প্রোগ্রামিং জানো, কম্পিউটারকে ঠিকঠাকমত বললে সে এক সেকেন্ডের মধ্যে সব গুলো মৌলিক সংখ্যা তোমাকে বের করে দেবে।

কিন্তু আসল মজাটা হচ্ছে প্রোগ্রামাররা, সিস্টেম বানাতে জানে। প্রোগ্রামাররা পৃথিবী বানাতে জানে – তুমি কম্পিউটারে যা কিছু দেখছো তোমার স্ক্রিনে সব কিছু প্রোগ্রামারদের বানানো। তোমার অপারেটিং সিস্টেমটা, তোমার গান শোনার মিডিয়া প্লেয়ার, তোমার লেখালেখি করার নোটপ্যাড, ছবি আঁকার পেইন্ট, তোমার ফেইসবুকটা, ফটোশপ, তোমার স্ট্র্যাটেজি গেইম কিংবা ফার্মভিল – সব কিছুই প্রোগ্রামারদের লেখা। সোজা কথায় তুমি যখন তোমার ফোনটা হাতে নিচ্ছো, যখনই কম্পিউটারে বসছো আর ইন্টারনেটে ঢুকছো তোমার বন্ধুদের খোঁজ নিতে, তখন তোমার চারপাশের পুরো পৃথিবীটাই প্রোগ্রামারদের লেখা।

শুধু কি তাই? প্রোগ্রামাররা যদি না থাকতো, কম্পিউটার গ্রাফিক্স কখনো থাকতোই না! আর যদি সেটা না থাকতো wall-e কে কেও বানাতোও না। wall-e কে ছাড়া পৃথিবী ভাবা যায় বলো?

সোজা কথায় প্রোগ্রামাররা সত্যিকার অর্থে জানে কিভাবে কম্পিউটারকে তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে হয়। আর তারা কম্পিউটারকে শেখাতে পারে, যাতে বাকি সব মানুষগুলো কোন কিছু না জেনেও কম্পিউটারটাকে ব্যবহার করতে পারে – ছবি আঁকার জন্য, মুভি দেখার জন্য, গান শোনার জন্য আর মাকে চিঠি লেখার জন্য।
*****************************************************
হুকুশ পাকুশের প্রথম প্রোগ্রামঃ

মানুষকে যেমন অনেকগুলো ভাষায় বলা যায় সুপ্রভাত, সেরকম কম্পিউটারকেও অনেকগুলো ভাষায় বলা যায় ওকে দিয়ে আমরা কি করতে চাই। আমি তোমাকে যে ভাষাটা শেখাবো সেটার নাম হচ্ছে পাইথন। পাইথন হচ্ছে খুব জনপ্রিয় একটা প্রোগ্রামিং ভাষা। তুমি যদি লিনাক্স ব্যবহার করো, তাহলে তোমার কম্পিউটারে অলরেডি পাইথন ইন্সটল করা আছে, তোমাকে শুধু টার্মিনাল খুলে পাইথনকে একটা ডাক দিতে হবে python লিখে। আর যদি তুমি উইন্ডোজ ব্যবহার করো – তোমার পাইথন ইন্সটল করতে হবে এখান থেকে

http://python.org/ftp/python/2.7.2/python-2.7.2.msi

এবার তোমার পাইথন কম্পাইলার টি ইন্সটল করো এবং ওপেন করো। পাইথনের কম্পাইলারকে অবশ্যা ইন্টারপ্রেটর বলে – কারণ সে অনুবাদকের মতো করে একটা একটা করে লাইন অনুবাদ করে। সাধারণ কম্পাইলাররা আগে পুরো কাজটা বুঝে নেয় তারপর অনুবাদ করতে যায়।

এবার নিচের মত করে লিখঃ

1. print “Hellow World!”

লিখেছো? এবার রান বাটনটা চাপো!

কি মজা! এটা ছিলো তোমার লেখা প্রথম প্রোগ্রাম! তুমি এখন থেকে প্রোগ্রামার হুকুশ পাকুশ!

আমরা এই প্রোগ্রামটাতে কম্পিউটারকে কি করতে বলেছিলাম জানো? আমরা কম্পিউটারটাকে বললাম, স্ক্রিনে দেখাতে “Hello World!”। তখন আমাদের কথা মতো একটা ছোট্ট নতুন প্রোগ্রামের জন্ম হলো। আর সেই ছোট্ট প্রোগ্রামটা চোখ খুলে বললো, “হ্যালো পৃথিবী!”।

কি মজা না বলো? তুমি যা করতে বলছো এখন কম্পিউটারটা তাই করছে!

এবার একটা কাজ করো। “Hello World” এর জায়গায় অন্য নতুন করে লিখো “Hello Hukush-Pakush!” । তারপর চলো তো দেখি কি হয়?

এবার আমি তোমাকে বলি এখানে আসলে কি হচ্ছে। কম্পিউটারটা আসলেই না পুরাই একটা যন্ত্র। ওর না কোন ধরণের অনুভূতি নেই – ও কিচ্ছু বুঝে না। ও শুধু বুঝতে পারে, কারেন্ট আছে আর কারেন্ট নেই । আর সেজন্য সে সবকিছু বুঝে নেয় শূণ্য আর এক দিয়ে। কম্পিউটারের কাছে শূণ্যতার মানে হচ্ছে কারেন্ট নেই, এক মানে হচ্ছে কারেন্ট আছে। তুমি তোমার কম্পিউটারকে যাই বলো না কেন, সে ঠিকই ওর মত করে শূণ্য এক দিয়ে কিছু একটা বুঝে নেবে। ধরো তুমি বললা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’, কম্পিউটার বুঝবে ‘শূণ্য শূণ্য শূন্য এক এক শূণ্য এক শূণ্য এক এক শূণ্য শূণ্য … ‘। তারপর বোকা হয়ে বসে থাকবে চুপ করে, কারণ তুমি তো ওকে কিছু করতে বলোনি!

কম্পিউটারকে আমাদের কথাগুলো বুঝিয়ে দেয়ার জন্য একটা অনুবাদক প্রোগ্রাম লাগে। সে করে কি আমাদের কথাগুলো শোনে তারপর শূণ্য আর এক এ অনুবাদ করে দেয় কম্পিউটারকে। এ ধরণের প্রোগ্রামগুলোকে বলে কম্পাইলার।

তো তুমি যখন লিখলা না – print “Hello World!” তখন কম্পাইলার প্রোগ্রামটা করলো কি – প্রথমে তোমার কোডটাকে পড়লো, তারপর কম্পিউটারকে অনুবাদ করে বললো “কম্পিউটারজী, আপনি আপনার প্রখর বুদ্ধি দিয়ে স্ক্রিনে এক্ষুনি Hello World! প্রিন্ট করুন”। তারপর কম্পিউটার সেটা বুঝে নিয়ে তাড়াহুড়া করে স্ক্রিনে দেখালো Hello World!
*****************************************************
চল কিছু অংক করি!

মনে আছে হুকুশ পাকুশ, চার্লস ব্যাবেজ প্রথম কম্পিউটারটা বানাতে চাচ্ছিলো হিসেব নিকেশ করার জন্য? আসো আমরা কিছু হিসেব নিকেশ করে দেখি কম্পিউটার দুইয়ে দুইয়ে চার করতে পারে কিনা! নিচের মত করে লিখঃ

print 2+2
print 4*8
print 9/3
print (2*3) + ( ( 3*3) + (9*9) ) * 5

কি? পাইথন কি কিছু পারল?

এবার একটা কান্ড করো, ওই 9 টাকে 10 করে তারপর দেখো তো কম্পিউটার ওটার জন্য কি উত্তর দেয়!