প্রথমেই বলে নেই, আমার এই লেখাকে কখনোই ফ্রীলান্সিং এর বিকল্প হিসেবে মনে করা করা যাবে না। আবার রাতারাতি কাড়িকাড়ি টাকা তৈরি করার কোন মেশিনের ম্যানুয়ালও ভাবা যাবে না। বিনা পরিশ্রমে সম্পদশালী হওয়ার কোন শর্টকাট পথ হিসেবে চিন্তা করা যাবে না।

পিটিসি সাইট

পিটিসি

কথাগুলো বলার কারন, আমি এখন খুবই সেন্সিটিভ বিষয় নিয়ে লিখব। পিটিসি শব্দটা শুনলেই কেমন জানি একটা খটকা খটকা ভাব চলে আসে মনে। এইটা পুরোপুরি স্বাভাবিক। আমারও আসত। আর বলতে গেলে কি, এখন ও আসে। তাহলে কেন আমি পিটিসি নিয়ে লিখছি? কারন, আমি গত কয়েক মাস ধরে এই পিটিসি-র পিছনে প্রচুর সময় এবং পরিশ্রম ব্যয় করেছি। বিভিন্ন ব্লগ, বিভিন্ন ওয়েব সাইট, ই-বুক ইত্যাদি ঘাটাঘাটি করে আমি যেই ফলাফল এ দাঁড়াতে পেরেছি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। হ্যাঁ!! পিটিসি দিয়েও উপার্জন সম্ভব। মোটামুটি ভাল মানেরই উপার্জন সম্ভব। কিন্তু পরিশ্রম না করে, কিংবা ধৈর্যের বাটি শুরুতেই খালি করে কখনই নয়।

 

আজকে এখানে এই বিষয়ে লেখার একমাত্র কারন আমার হাতে আসা ojooo.com থেকে প্রথম পেমেন্ট। যা কিনা আমি মনে করেছিলাম কখনই পাব না। পেমেন্ট টি আমার পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট এ জমা হওয়ার সাথে সাথে আমি সিদ্ধান্ত নেই এ ব্যাপারে আপনাদের কে জানাব। Ojooo.com নিয়ে আমি প্রথম এখানেই লিখি। আমার দেখা বেস্ট পিটিসি সাইট… বাজারের সবচেয়ে বেশি পেমেন্ট করে। কারন শতশত পিটিসি সাইটের মধ্যে আমার এই সাইটটিকে ট্রাস্টেড মনে হয়েছিল। এবং সেখানে আমি কাজ শুরু করি। এরা প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমান অ্যাড ভিজিট করতে দেয়। অ্যাড গুলোর ভ্যালু ও মোটামুটি ভাল। এরপর আমি অ্যাড থেকে উপার্জিত ডলার দিয়ে রেফারাল রেন্ট করি যাঁদের কাজের কিছু অংশ আমি পাব। পরবর্তীতে আমি কিছু ডিরেক্ট রেফারাল এর ও সহযোগিতা পাই। এরপর আমি লক্ষ্য করি আমার ডলার উপার্জনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি প্রথমেই ডলার উইথড্র না করে আর ও রেফারাল রেন্ট করি। এত কিছুর পর গত একমাস আগে আমি আমার প্রথম ডলার উইথড্র করি। এবং ojooo আমাকে এর বিশ পঁচিশ দিনের মধ্যে ২ ডলার পেমেন্ট করে। এখন আমার প্রতি ডলার উপার্জন করতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে।

 

এখানে আসলে ২ ডলার বড় কথা না। আমি জানি অনলাইন উপার্জনের জগতে এটা খুবই নগন্য। কিন্তু আমি এখন জানি কিভাবে পিটিসি তে কাজ করতে হয়। কিভাবে ট্রাস্টেড সাইট চিনতে হয়। আর আপনারাও এর মাধ্যমে একটা ট্রাস্টেড সাইট চিনলেন। আমি আশা করি আপনাদের দোয়া এবং আমার রেফারালদের সহযোগিতায় আমি খুব সহজেই আমার উপার্জন বাড়াতে পারব। এতক্ষন শুধু সেলফিশের মত নিজের কথা বলে গেলাম। এখন আপনাদের জন্য পিটিসি তে ভাল করার কিছু টিপস। প্রথমেই আপনাদের কে ট্রাস্টেড পিটিসি সাইট চিনতে হবে। যারা মোটামুটি ভাল সময় ধরে অনলাইন এ ব্যবসা করছে। মনে রাখবেন শুধুমাত্র ট্রাস্টেড পিটিসি সাইট গুলোই আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক পেমেন্ট করবে। অন্য সকল সাইট শুভঙ্করের ফাঁকি। একসাথে তিন চারটি সাইটে কাজ শুরু করতে হবে। আর প্রতিদিনের অ্যাড প্রতিদিন ভিজিট করতে হবে। প্রথম দিকে নিজের উপার্জিত ডলারের দিকে তাকালে চলবে না। কারন শুধুমাত্র আপনি নিজে কাজ করে ডলার আয় কখনই বাড়াতে পারবেন না। গ্যারান্টেড… পিটিসি তে রেফারালগন ই মূল শক্তি। তাই আপনাকে আপনার কাজের প্রচার করতে হবে। তবে মনে রাখবেন আপনার রেফারাল বাড়ানোর জন্য মিথ্যা প্রচার প্রচারনা চালালে আল্টিমেটলি ধরাটা আপনিই খাবেন। মানুষ এখন অত বোকা না যে, আপনি প্রুফ ছাড়া কিছু বললেন আর সবাই তা বিশ্বাস করে নিল। আজকাল ডিরেক্ট রেফারাল পাওয়া খুবই দুস্কর, তাই প্রথম উপার্জিত ডলার উইথড্র না করে রেফারাল রেন্ট করতে হবে। প্রতিটি সাইটেই রেফারাল রেন্ট করার সুবিধা থাকে। যেখানে আপনি .২ ডলার দিয়েই রেফারাল রেন্ট করতে পারবেন এক মাসের জন্য। রেন্ট কৃত সকল রেফারাল যে আপনার খুব উপকারে আসবে তা গ্যারান্টি সহকারে বলা যায় না। তাই যে সকল রেফারাল প্রতিদিন ক্লিক করবে তাঁদের অটোপে এনাবল করে দিতে হবে। এ ব্যপারে আপনি কাজ শুরু করলে নিজেই বুঝতে পারবেন। সব সাইট ই রেফারাল এর প্রতিটি ক্লিক এর স্ট্যাটিস্টিক্স আপনাকে প্রদান করবে।

 

সর্বোপরি কখনই ধৈর্য হারালে চলবে না। মনে রাখবেন, যে কোন ব্যাপারে সাফল্য কখনো একবারে আসে না। কোন সাইটেই ইন্সট্যান্ট পেমেন্ট বলতে কিছু নাই। সব সাইট ই ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় নিবে পেমেন্ট করার জন্য। যেসব সাইট ইন্সট্যান্ট পেমেন্ট এর কথা বলে সবই ভাঁওতাবাজি। আপনারা ইচ্ছা করলে নিজের ডলার ইনভেস্ট করে অ্যাকাউন্ট আপগ্রেড করতে পারেন। ট্রাস্টেড পিটিসি সাইটে অ্যাকাউন্ট আপগ্রেড করা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আর তাছাড়া, বেশি পরিমান উপার্জনের জন্য অ্যাকাউন্ট আপগ্রেডেশন জরুরি। একবার কোন সাইটে কাজ শুরু করলে তা ছাড়া উচিত না।

পিটিসি,ptc,পিটিসি সাইট,উপার্জন,ট্রাস্টেড পিটিসি