ওয়েবসার্ভিস ব্যাবসার কথা বলতেই যাদের ভ্রূ কুঁচকে যায় তারাও আসলে এমন একটি সম্ভাবনা খুঁজে বেড়ান, যেখানে শুধু শ্রম ও অর্থের নিরাপত্তাই নয় থাকবে সুন্দর ভবিষ্যতেরও নিশ্চয়তা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, অনলাইনজব, মার্কেটপ্লেস, ওয়েবডিজাইন, হোস্টিং, ডোমেইন, এসইও, সিএমএস ইত্যাদি টার্মগুলো এখন অত্যন্ত চেনা। কেউ এ সম্পর্কে না জানলেও এতটুকু অন্তত বোঝে যে এগুলো অনলাইনে টাকা ইনকামের মাধ্যম।

ওয়েব সার্ভিস ব্যাবসার ভবিষ্যৎ ও কিছু তথ্য

ওয়েব সার্ভিস

আজ থেকে ৫-৬ বছর আগে যখন ওয়েব ডেভেলপমেন্টে আমার প্রথম হাতে খড়ি- এক পাড়াতো ভাই টিটকারি মেরে বলেছিলেন, ‘শুনলাম আজকাল নাকি ঘরে বসে ডলার কামাচ্ছো?’ কানে নেইনি কথাটি, ‘ও সবএ কাজ হবে না… বুঝলে? তবে হ্যাঁ। ব্লগিং করলে ইনকাম আছে। বাকি সব ভূয়া। ব্লগ করবা, এ্যাডে ক্লিক দিবা, টাকা পাইবা- ব্যাস!’- আবার বললেন। আমি শুধু চেয়ে রইলাম ওনার মুখের দিকে। এমন কথা তো আশা করিনি- তাই না?

ব্লগিং করলে টাকা পাওয়া যায়- কিভাবে?
সহজ হিসাব- এডসেন্স! হ্যাঁ অন্যান্য বিজ্ঞাপণ সেবা ও এ্যাফিলিয়েট সিসটেমও রয়েছে ইনকাম করার জন্য। এসব নিয়ে না হয় আরেকদিন লিখব।

গুগলের বিজ্ঞাপণ সেবা এডসেন্সের টানে অনেকেই অনলাইনের দারস্থ হয়েছিলেন তখন আয় রোজগার করতে। তবে এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আউটসোর্সিং এর বদৌলতে অনেকেই এখন স্বাবলম্বি। অবশ্য ধান্দাবাজরাও যে উধাও হয়ে গেছে তা নয়। তবে লাখো বেকারের কর্মসংস্থান করে দেয়া আউটসোর্সিং আজ এক সম্মান জনক পেশা। একটা সময় কম্পিউটার ছিল শুধু গেমিং কিংবা মুভি দেখার মাধ্যম (ও হ্যাঁ, টাইপিং এরও… সে কথায় পরে আসছি)। তারপর যোগ হল ফেসবুকিং। এখনও এগুলো হচ্ছে, কিন্তু দৃশ্যপট বদলেছে।

ক’দিন আগে ভরদুপরে আমার এক কাজিন ফোন দিয়ে বলল- ‘ভাই, কম্পিউটারের ওপরে দক্ষতা তো আল্লাহ ভালই দিয়েছেন, এখন আমি আপনার ওয়েব ডেভেলপমেণ্ট শিখতে চাই। আউটসোর্সিং নয়… সেলফ সোর্সিং এর জন্য’। ঠিক বুঝলাম না কথাটা, তাই জিজ্ঞেস করলাম- ‘মানে?’
‘মানে আর কি, আমি কম্পিউটার হোম সার্ভিসিং এর কাজ করি। অনেক লোকের বাসা-অফিসে যাই। তারা যতটা না কম্পিউটার একসেসরীজ এর কথা জানতে চায়, তারচেয়ে বেশি জানতে চায় ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ জানি কিনা? একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এখন নাকি ওয়েবসাইট ছাড়া ব্যাবসা চলেই না। প্রাইসিং, প্রমোশন, ডেসক্রিপশন, ছবি, ভিডিও কিসের জন্য লাগে না ওয়েবসাইট? তোমারতো ভাই আমার চেয়ে এ ব্যপারে আরো ভাল আইডিয়া আছে’।
হুম। আইডিয়া আছে বৈকি! তাই তো আইডিয়া শেয়ারে বসে গেলাম।

২০০৩-০৪ এর দিকে যখন কম্পিউটার সার্ভিসিং শিখলাম- ভালই লাগত। আব্বু একবার তার অফিসে নিয়ে গেলেন, এমনি। এক কলিগের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আব্বু তাকে বললেন, ‘আমার ছেলে কিন্তু কম্পিউটারের পন্ডিত। অনেক কিছু জানে, যে কোন সমস্যা চুটকিতেই সমাধান করতে পারে’। আঙ্কেল বললেন, ‘তোমার টাইপিং স্পীড কত?’ আমি আস্তে করে বললাম, ‘জানিনা’। তার জবাবটা আশানরূপই ছিল- ‘টাইপিং এর দক্ষতা না থাকলে সে আবার কম্পিউটারের পন্ডিত হয় কি করে?’ মন্দ বলেননি।

যাই হোক- দু’বছর আগে আবার তার সাথে এক অনুষ্ঠানে দেখা। কথাপ্রেক্ষিতেই জানতে চাইলেন কি করছি এখন। বললাম ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বিজনেস। বুঝতে সমস্যা হচ্ছে ভেবে আবার বললাম, ‘ঐ বিভিন্ন কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি করি আর কি!’ তিনি জানতে চাইলেন এখান টাইপিংটা ভাল হয়েছে নিশ্চই? ইচ্ছে করেই নেগেটিভ উত্তর দিলাম। এবার তার উত্তর শুনে আকাশ থেকে পড়লাম যেন- ‘তুমি টাইপিং জাননা… তোমাকে বিভিন্ন কোম্পানি-প্রতিষ্ঠান কাজ দেয় কিভাবে…?!!’

আসলে টেকনলজির এ যুগেও সেই পাড়াতো ভাই কিংবা এই আঙ্কেলের মত ভুল ধারণাওয়ালা লোকেদের দেখা পাওয়াটা খুব বেশি কষ্টের নয়। সেই সাথে কষ্টসাধ্য নয় সঠিক পথে হাঁটার গাইডলাইন পাওয়াও।

বাজার বিচার মাথায় রেখে এটাই বলা যায়- সময়েরে সাথে সাথে আউটসোর্সিং কিংবা দেশি মার্কেটে ওয়েবসাইট, এসইও কিংবা সোশাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের চাহিদা কখনই শেষ হবার নয়।

ওয়েব সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে আপনার যেমন রয়েছে প্রতিযোগীতামূলক বাজার; তেমনি কোন এক প্রতিযোগীতার বাজারে টিকে থাকতে আপনারই অপেক্ষায় রয়েছেন আপনার ক্লায়েন্ট।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, এসইও, সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং এর পেশাদারী দক্ষতা দিয়ে আপনিই পারেন আপনার ক্লায়েন্টকে সেই প্রতিযোগীতায় বিজয়ী করতে। আর সেই সাথে নিশ্চিত করতে পারেন আপনার নিজের জন্য কাজের এক নিরাপদ ক্ষেত্র।

তাই এক কথায় বলা চলে ওয়েব সার্ভিস ব্যাবসার ভবিষ্যত ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস ও দেশীয় মার্কেট- উভয় ক্ষেত্রেই আশাব্যাঞ্জক। বৈশ্বিক গ্রাম্য কুটিরে বসে তাই আপনার ব্যাবসার ভিত পোক্ত করাটা আজ আপনার নিজের হাতেই।

কারণ, জানেনই তো… ‘বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে!’