ইন্টারনেটে ব্যাবহার ভারত পিছিয়ে, বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করে এই কথাটি এক কথায় বলে দিতে চাই।

ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে কানেক্টিভিটি অনেকেরই শখ হতে পারে, কিন্তু কারো জন্য এটা অতি প্রয়োজনও।

ইন্টারনেটে ব্যাবহার

বাংলাদেশের ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র একজন কর্মীর জন্য অতি-অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু বিগত চার বছরে সম্ভবত এই প্রথম টানা ২৪ ঘণ্টা নিজেকে ডিসকানেক্টেড থাকতে হলো।

বাংলাদেশের অতি দুর্গম নীলগিরির অতি উঁচুতে উঠেও পাওয়া যায় কানেক্টিভিটি। জয়তু বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। গ্রামীণফোন, রবি কিংবা বাংলালিংকের সাথে সেবার পাল্লায় ফেল করবে ভারতের এয়ারটেল-ভোডাফোন, এ কথা হলফ করে বলতে পারি। গত দুই দিনে ফোন আর ইন্টারনেট নিয়ে যে জিল্লতি হলো তাতে এ কথা বলাই যায়।

একই কথা বললেন দিল্লিতে বাংলাদেশে হাই কমিশনের একজন বড় কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ কথা অবশ্যই ঠিক, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং ইন্টারনেট কানেন্টিভিটি অনেক ভালো।
তাছাড়া ভারতীয়রা যেনো নিজ দেশেই পরবাসী। বাংলাদেশে কোনো মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে রোমিং শব্দটি তখনই প্রযোজ্য যখন কেউ দেশের বাইরে যাবে। কিন্তু ভারতে রাজ্যের বাইরে গেলেই রোমিং ও বাড়তি চার্জ। আর ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি অকেজো।

যুক্তি যদি হয় বড় দেশ তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে কেনো সম্ভব। একই রেটে একই কানেকশনে সেখানে সব স্টেটে ঘুরে ঘুরে কথা বলা যায়। সে দেশেতো একটি স্টেটের সঙ্গে অন্যটির টাইমজোনেই তিন/চার ঘণ্টা করে ব্যবধান।

গল্পটি এরকম। কলকাতায় পা ফেলেই এখানকার প্রতিনিধিকে বললাম, বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হবে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি যেনো থাকে সেটা নিশ্চিত করাই প্রথম কাজ।

‘কোনো বিষয় নয়’ বলে নিয়ে গেলেন তারই পরিচিত একজনের দোকানে। সেখানে এয়ারটেল-ভোডাফোনসহ বিভিন্ন ধরনের কানেকশন পাওয়া যায়। ভোডাফোনই নিতে চাইলাম। কিন্তু ওই রাতে এর সিম না থাকায়, দোকানি বোঝালেন এয়ারটেল ভালো- এটিও নিতে পারেন। সারা ভারতবর্ষে চলবে। নিয়ে নিলাম। চাইলাম ইন্টারনেট প্যাকেজ কি আছে। বললেন, রাতটুকু এয়ারটেলে ৫০ এমবি ফ্রি পাবেন তা দিয়ে চালান, দিনে ওটা চালু করে দেবো।

তথাস্ত বলে হোটেলে ফিরে হাতে দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন মোবাইল ফোনকে রাউটার করে নেট কানেক্ট করে স্টোরি লিখে পাঠানো, ই-মেইল চেক, ফেসবুকে কিছুটা বিচরণসহ ঘণ্টা দেড়েক কাটিয়ে কম্পিউটার বন্ধ করে ঘুম। সকালে উঠেই দেখি মোবাইল ফোনে ব্যালান্স নেই ফোন করা যাচ্ছে না। বোঝাগেলো ৫০ এমবি ফ্রি দেওয়ার নামে রাতে ফোনের গোটা ব্যালান্সই কেটে নিয়েছে এয়ারটেল। সকালে উঠে দ্রুত ৫০ রুপি রিচার্জ করে তবেই ফের যোগাযোগ। এরপর সিদ্ধান্ত নেই এয়ারটেল থাকুক টেলিফোনের জন্য একটি ভোডাফোন কানেকশন শুধুই ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য। ২৫৫ রুপিতে ১ জিবি প্যাকেজ। বাংলাদেশের চেয়ে দাম বেশি, তাও খারাপ নয় ভেবে নিয়ে নেই। এরপর রাজধানী এক্সপ্রেসে চেপে বসি।

পশ্চিমবঙ্গের সীমানা ছাড়ানোর পরই দেখি টেলিফোন বলছে, তুমি রোমিংয়ে। কল করতে হলে বাড়তি চার্জ দাও। আর ইন্টারনেট বলছে, আমি তোমাকে কানেক্ট করতে পারছি না।

এভাবেই দিল্লি। ১৮ ঘণ্টার টানা ট্রেন যাত্রা শেষে হোটেলে উঠেই কম্পিউটার কাঁধে বেরিয়ে পড়ি, নেট কানেকশনের খোঁজে। সবারই এক কথা তোমাকে নতুন কানেকশন নিতে হবে। কেউ সাড়ে পাঁচশ’ কেউ সাড়ে ছয় শ রুপি চাইছে।

একজন পথ দেখালেন কাস্টমার কেয়ারের। ছুটলাম সেখানে। মধ্যবয়ষ্ক বাবা ব্যবসা করেন, তার তরুণ ছেলে লেখাপড়ার ফাঁকে কাস্টমারদের কেয়ারিংয়ে সময় দেয়। তুলে ধরলাম ইন্টানেটের আদ্যপান্ত। ছেলেটির পাকা হাত। একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে বলে দিলো হবে না। কেনো হবে না তার একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও দিলো। এটি কলকাতার সিম। দিল্লিতে চলবে না।

বললাম নতুন কানেকশন দিন। নেওয়া হলো ৩৫৫ রুপি দিয়ে। ১০০ রুপি সিম আর ২৫৫ রুপি ওয়ান জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ।
টাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। দোকানি সিমের প্যাকেট হাতে দিয়ে বললেন, আট ঘণ্টা পড়ে ১১৭ নম্বরে ফোন করে নিজের বৃত্তান্ত জানিয়ে চালু করে নেবেন আপনার কানেকশন।

এবার আবার মাথায় হাত। আরও আট ঘণ্টা! হোটেলে ফিরে ঘুমিয়ে টিভি দেখে আট ঘণ্টা পর ঠিক রাত আটটায় সরাসরি কাস্টমার কেয়ারে। ছেলেটিকে দেখি তখনও কাজ করে যাচ্ছে। বললাম আপনিই কানেক্ট করে দিন। ১৫ মিনিটের মধ্যে কানেকশন মিললো। এরপর আরও আধাঘণ্টার অপেক্ষা। সে অপেক্ষারও শেষ হলো।

থ্রিজি প্যাকেজ। স্পিড নিয়ে চিন্তা করবেন না, এসব কথাও শুনে এলাম। হোটেলে ফিরে নেট চালু হলো ঠিকই। কিন্তু ‘দুর্দান্ত স্লো’। কোথায় থ্রি-জি, টু-জি। নেট কানেকশন দিয়ে হ্যাঁ-জ্বি, হ্যাঁ-জ্বি করছি। আর মিনিটে মিনিটে টাকা খোয়াচ্ছি।