দ্যা সাইকো রাইটার
(ভিকটিম নিরা)
-মোঃআরীক পামির (ফিনিক্স এর অনুভূতি)

মাঝে মাঝে একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে ইচ্ছা করে । কিন্তু কোনো এক কারনে পারি না, নিজেকে স্বাভাবিক ভাবতে পারি না। কেনো জানি মনে হয় নিজের সাথে সারাক্ষন অভিনয় করে যাচ্ছি। অভিনয়ে সারাক্ষন আমার অন্তর্সত্তা হেরে যাচ্ছে আর আমি বিজয়ির মতো হাসছি। আমি জানি আমি স্বাভাবিক না, আমার সাথে যা ঘটে তাও স্বাভাবিক না , আমি যা দেখি তাও স্বাভাবিক না। আমাকে যারা দেখে তারাও স্বাভাবিক কিনা আমি জানি না। আজকে আমার ডায়েরিতে একটা নতুন গল্প লিখবো।আমার বন্ধুরা আমাকে সাইকো রাইটার বলে ডাকে তাদের এই ডাকের অমর্যাদা করা ঠিক না।
18/12/2014………
-কিরে কেমন আছিস ?
আরিয়ান পেছন ফিরে তাকায় ।
-আরে নিরা যে কতোদিন পর , কেমন আছো?
কিছুটা বিরক্ত হয়ে নিরা বলে
– তুই আমাকে তুমি করে ডাকা ছাড়বি!!!
সেই কলেজ থেকে তোরে বলে আসতেছি আমাকে তুই করে ডাকবি
আরিয়ান কান ধরে একটু ভনিতা করে বলে
-আচ্ছা যা সরি ভুল হয়ে গেছে। তুই কেমন আছিস ??
-এই আছি ভালো । তা তোর লেখালেখি কতোদুর, ফেবুতে তো ভালোই লাইক কমেন্ট পাস দেখি।
-ঐ ফেবুতেই সীমাবদ্ধরে । আমাকে সবাই সাইকো রাইটার নাম দিয়েছে। এটা কোনো কথা বল !!
-সারাক্ষণ খুন খারাপি নিয়ে লেখলে এই নামই তো দিবেই
আরিয়ান আর নিরার কথা চলতে থাকে। আরিয়ান এখন ব্যাচেলর মা বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। আত্মীয়স্বজন তেমন কেউ নেই ।দুর্সম্পর্কের এক চাচা আছে তাও যোগাযোগ তেমন হয় না। ভার্সিটিতে ২য় বর্ষে উঠেছে মাত্র। খুন খারাপি নিয়ে লেখালেখি করে বেশ নাম করেছে ফেসবুকে, ৫০০এর নিচে লাইক আসে না বললেই চলে। বন্ধুরা মিলে নাম দিয়েছে সাইকো রাইটার। সবাই বলে ওর লেখা পড়লে মনেই হয় না, এটা মিথ্যা। কিন্তু এক মাত্র আরিয়ানই জানে ও যা লেখে তা কেনো এতো বাস্তব মনে হয়। নিরা আরিয়ানের কলেজ জীবনের বন্ধু ছিলো। ভার্সিটিতে এসে নিরা একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ইংলিশে অনার্স আর আরিয়ান সাইকোলজি নিয়ে পড়া শুরু করে।
– তা……….. নিরা বিয়ে করেছিস???
– হ্যা করছিতো,……. তিনটা করেছি। ১০টা বাচ্চাও আছে।
এই বলে নিরা হাসতে থাকে।
আরিয়ানের হঠাৎ কি একটা জানি হয়। আরিয়ান কারো হাসি দেখলেই কেমন জানি অনুভব করে। মাথায় ব্যাথা শুরু হয়। পুরোনো কথা মনে পরে।
আরিয়ান নিরার হাসির ব্যাপারটা এড়ানোর জন্য বলে।
– সিগারেট খাবি????
-কি সিগারেট !!!! পাগল হইছিস নাকি??
নিরা কিছুটা অবাক হয়ে যায়।
– এখানে ?? ইচ্ছা নেই। এক কাপ চা হলে খারাপ হয় না।
আরিয়ান এখনো হাসির ঘোরটা এড়াতে পারেনি। মাথায় এক ধরনের অদ্ভুত ব্যাথা করছে। রক্ত দেখতে ইচ্ছে করছে। আর্তনাদ শুনতে ইচ্ছে করছে। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে আরিয়ান বলে
– চল আমার বাসায় যাই। চা খাওয়া যাবে।
নিরা আশ্চর্য হয়ে বলে
-এখন!!” মাথা খারাপ নাকি
আরিয়ান ভুরু কুচকে বলে
– কেনো এখন গেলে কি সমস্যা???
– না সমস্যা কিছু না । কিন্তু এখন যাবো না রে। আচ্ছা ওয়েট!!!!!!!
নিরা ব্যাগ থেকে একটা কাগজ বের করে কি যেনো দেখতে থাকে।
আরিয়ান নিরার চিন্তাময় মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । ১মিনিট পর নিরা নিরবতা ভাঙ্গলো
– আচ্ছা শোন আমি কাল আসবো। বিকেলবেলা…. ঠিক আছে????
– তোর যা ইচ্ছা।
আরিয়ান আর নিরা হাটতে হাটতে অনেকটা দুর চলে এসেছে।
– আচ্ছা আজ আসি কাল দেখা হবে।
এই বলে নিরা চলে গেলো …..। আরিয়ান নিরার চলে যাওয়া দেখছিলো।
বাসায় এসে আরিয়ান ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে বিছানায় শুয়ে পরলো। কোন সময় ঘুমিয়ে পরলো বুঝতে পারলো না ।
…………
(-কুত্তার বাচ্চা আমাগো বহুত লস করছে। -কুত্তার বাচ্চা তুই ট্যাক্স অফিসার হইছোস হা…… সততা দেহাছ আমারে। আইজ তোর শেষদিন।
-ভাই ভুল হইছে ভাই আমাকে ছেড়ে দিন ভাই। আমি আপনার পায়ে পড়ছি ভাই।
আ…..আআআ……
-আমাগো লগে পাংগা
হাহাহাহাহাহ হাহাহাহাহাহ হাহাহাহাহাহ
অই কালাইম্মা ছেড়িডা কই দেখতো।
মা মা মা মা মা …………
ঘুম থেকে ধরফর করে জেগে ওঠে আরিয়ান ।
)
মা মা মা …… পুরো দমে ঘামতে থাকে আরিয়ান । শীতকাল তার উপর ফ্যান চলছে। আরিয়ানের মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে । নিরার হাসিটা আরিয়ানের ভিতর কিছু একটা জাগিয়ে তুলেছে। আরিয়ান রাতে আর ঘুমায় নি। সারারাত সিগারেট খেয়ে কাটায়। মানসিক উত্তেজনা যেনো আরিয়ানকে গ্রাস করে ফেলেছে। আরিয়ান তিনটে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে। কিছুক্ষন এর মধ্যেই গভীর ঘুমে ঢলে পরে সে।
দরজায় অনেকক্ষন ধরে আওয়াজ হচ্ছে। আরিয়ানের ঘুম ভেঙ্গে যায়।দরজা খুলে দেখে ভিখারি ভিক্ষা চাচ্ছে। আরিয়ান একটু বিরক্ত হয়।এক টাকা দিয়ে বিদায় করলো।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ১টা বেজে গেছে। ঘুম পুরো কাটেনি। চোখগুলো ফুলে লাল হয়ে আছে।এলোমেলো চুল।হঠাৎ ইই আরিয়ানের মনে পড়ে আজ নিরার আসার কথা । খুশি হওয়ার বদলে আরিয়ানের মাথায় সূক্ষ্ম একটা বেথা করে উঠলো।
গোসল সেড়ে বের হয়ে এসে দেখে টেবিলে ভাত রাখা।
“নিশ্চয়ই রহিমের কাজ , আমি আসিনি বলে ঘরে রেখে গেছে…… ছেলেটা। আল্লাহই জানে কতো দিন এই হোটলে চাকুরী করে কাটাবে” ,,,,,,,,,, আরিয়ান ভাবতে থাকে।
খাবার শেষ করে আরিয়ান তার ডায়েরি নিয়ে বসে।লেখালেখি অনেক পুরনো অভ্যাস। থ্রিলার, লাভ,এডভেঞ্চার স্টোরি লিখে সে। অস্বস্তী কাটানোর জন্য সে লিখতে বসে।
লিখতে লিখতে কোন সময় ঘুমিয়ে যায় জানে না।
আবার সেই দুঃস্বপ্ন দেখে আরিয়ান
(অই কালাইম্মা ছেড়িডা কই দেখতো…..
-ওস্তাদ দরজা আটকাইয়া বইয়া আছে। – দরজা ভাঙ্গ … বাইর কর হারামজাদিরে….
ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক
ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক
-হালিরে শেষ কর
হা হা হা হাহাহাহাহাহাহহহ
াহাহা
মা মা মা মা মা মা মা মা মা………………….
আরিয়ান আরিয়ান আরিয়ান ……..
)
ঘুম ভেঙ্গে যায় আরিয়ানের …..
নিরা ডাকছে মনে হলো … ও হ্যা নিরার আসার কথা। তাড়াতাড়ি করে দরজা খুলে দেয় আরিয়ান।
-কিরে এতোক্ষন ধরে কই ছিলি। কতোক্ষন ধরে দরজা নক করছি।
-না। কিছু না। আয় ভিতরে আয়।
সারা ঘরে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় নিরা।
-কিরে তোর এটা ঘর নাকি কাবার খানা। এতো নোংরা ক্যান। সব কিছু এলোমেলো
আরিয়ানের মাথায় অন্য ব্যাপার চলতে থাকে।
নিজের সত্তার সাথে কথা বলতে থাকে
-নিরাকে বেশীক্ষন রাখা যাবে না।
-কেনো ??
-তাহলে তুই ওর হাসি সহ্য করতে পারবি না। আর নিরা আবার হাসবে তুই জানিস আরিয়ান।
-কিন্তু আরিয়ান… নিরা এই প্রথম এলো।
-চুপ !!!! বেশী কথা বলিস না। নিরাকে চলে যেতে বল
-আরিয়ান “!!আরিয়ান !! ” এই আরিয়ান নিরা ডাকতে থাকে।
একটু অপ্রস্তুত হয়ে জবাব দেয়
-হ্যা হ্যা
– কিরে কি ভাবিস এতো
-না । মানে । কিছু না । কি খাবি বল
-না, মানে, হ্যা, এগুলা কি তুই ঠিক আছিসতো।
-হ্যা ঠিকই আছি।
কোনো অনুমতি না নিয়ে নিরা আরিয়ানের ডায়েরীটা নিয়ে নেয়।
-তা লেখালেখি চালু আছে দেখছি।
-হ্যা মোটামুটি ।
-থ্রিলার রাইটার (?) কে হত্যা।নামটা তো দারুন দিয়েছিস। কিন্তু প্রশ্নবোধক চিহ্ন কেনো।
-আসলে এখনো চরিত্রের নাম ঠিক করিনি।
নিরা কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টালো সব যায়গায় (?) চিহ্ন দেখে । নিরা হাসতে থাকলো।
-এক কাজ কর আমার নাম দিয়ে দে । ভালোই হবে।
এই বলে নিরা আবার হাসতে থাকলো।

দ্যা সাইকো রাইটার ( the psycho writer )

দ্যা সাইকো

আরিয়ানের মাথার ভেতর আবার সেই সূক্ষ্ম ব্যাথা ।মনে হচ্ছে মাথার পিছনে কেউ কিছু দিয়ে বারি দিচ্ছে।
-নিরা ?? একটু ওয়েট কর আমি আসছি।
কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে আরিয়ান বেরিয়ে যায়।
ওয়াসরুমে যেয়ে দ্রুত দরজা আটকে দেয়।আরিয়ানের চোখে হঠাৎ সব কিছু ঝাপসা হয়ে আসে।মাথায় একটা চক্কর মারে ওর।ধপ করে ফ্লোরে বসে যায় সে।
পুরোনো কথা স্বৃতিতে ভেসে ওঠে
(-আব্বু তোমার আব্বু, আম্মুকে কে মেরেছে তুমি জানো।ভয় পেয়ো না।আমি আছি না আমাকে বলো।
-স্যার, ছেলে কিচ্ছু বলে না । খুব ভয় পাইছে।
পুলিশ অফিসার একটু গম্ভীরভাবে উত্তর দেয়,… থাক, ওকে আর চাপ দিয়ো না। ডাক্তারের কাছে পাঠাও তাড়াতাড়ি।
)
না না আল্লাহ এসব বন্ধ করো আমি শুনতে চাই না। আরিয়ান কান চেপে ধরে। মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয়।
(কুত্তা বাচ্চা তুই ট্যাক্স অফিসার হইছোস হা…… সততা দেহাছ আমারে। আইজ তোর শেষদিন।
ভাই ভুল হইছে ভাই আমাকে ছেড়ে দিন ভাই। আমি আপনার পায়ে পরছি ভাই।
আ…..আআআ……
আমাগো পাংগা
হাহাহাহাহাহ হাহাহাহাহাহ হাহাহাহাহাহ
আরিয়ান চিৎকার করতে থাকে। পানির ভিতরে মাথা ডুবিয়ে।

তা……….. নিরা বিয়ে করেছিস???
– হ্যা করছিতো,……. তিনটা করেছি। ১০টা বাচ্চাও আছে।
হাহাহাহহাহাহাহহাহা
)
আরিয়ানের মাথায় এসব ঘুরপাক খেতে থাকে। নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে সে। তার ভেতরের অন্ধকার সত্তা আবারো জেগে ওঠে।
-আরিয়ান
-হ্যা বল।
-নিরাকে মেরে ফেল তাহলে আর ওর হাসি তোকে পুরনো কথা মনে করাবে না।
-কিন্তু
-না কোনো কিন্তু না।মেরে ফেল….
এবার আরিয়ান নিজের উপর পুরো নিয়ন্ত্রন হারায়।
দরজা খুলে তার রুমের দিকে যায়।
-কিরে এতোক্ষণ কি করছিলি ওয়াস রুমে
-নিরা!!!
-হ্যা বল
-তুই চলে যা
নিরা কিছুটা অবাক হয়ে যায়
– আচ্ছা তা নাহয় গেলাম। কিন্তু
কথা শেষ করার আগেই আরিয়ান ধমকে উঠে
-চলে যা না হয়
কথা শেষ করার আগেই মাথায় তীক্ষ্ণ ব্যাথায় আরিয়ান মেঝেতে বসে পড়ে।
নিরা এবার অনেকটা ঘাবড়ে যায়।ছুটে যায় আরিয়ানের দিকে
-আরিয়ান তোর কি হলো।আরিয়ান??
আরিয়ান হাসতে থাকে । অদ্ভুত সে হাসি একটা পৈশাচিক ভাব সেই হাসিতে।
হাসির আওয়াজ প্রতিফলিত হতে থাকে ঘরে।
নিরা এবার ভয় পেয়ে যায়
-আরিয়ান তোর কি হয়েছে।
আরিয়ান উঠে দাড়ায়। আলমারিতে কি জেনো খুজতে থাকে।
নিরা ভয়ার্ত ও বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে আরিয়ানের দিকে তাকায়।আবারো জিজ্ঞাসা করে।
-এই আরিয়ান কি খুজছিস।
কোনো উত্তর আসে না । নিরার কৌতুহলের মাত্রা বাড়তে থাকে।
পাগলের মতো হাতরাতে থাকে । আলমারির জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলতে থাকে সে ।
নিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিয়ান একটা ধাতব দন্ড দিয়ে নিরার মাথায় আঘাত করে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নিরা।
-এটা কি করলি আরিয়ান নিরা তোর বন্ধু ।
-চুপ একদম চুপ কিসের বন্ধু কোন বন্ধু নেই। তোর কি আরিয়ান নিরা হাসবে কেনো ??? হ্যা কেনো হাসবে??আরিয়ান বল??
-কিন্তু তাই বলে চুই নিরাকে মেরে ফেলবি
নিরাকে একটা চেয়ারের সাথে বাধার সময় নিজের সাথে নিজেই বির বির করে কথা বলতে থাকে সে ।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর নিরার জ্ঞান ফিরে ।একটা চেয়ারের সাথে বাধা অবস্থায় সে নিজেকে আবিষ্কার করে । মাথায় একটা সূক্ষ্ম ব্যাথা , কয়েক সেকেন্ড লাগে তার মনে করতে যে আরিয়ান তাকে আঘাত করে ছিলো । একটা চাপা ভয় তাকে ঘ্রাস করে ফেলে। চারদিকে অন্ধকার কিছু দেখাও যাচ্ছে না। চিৎকার করে যা কারো সাহায্য চাইবে তার উপায় ও নেই তার মুখ টেপ দিয়ে বাধা।
নিরার বুঝতে কোনো সমস্যাই হয়না যে সে ভয়ানক কোনো এক খেলার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে ।
নিজেকে ছাড়ানোর ব্যার্থ চেষ্টা করতে থাকে সে ।
চেয়ারের নড়াচড়ার কারনে আরিয়ান বুঝতে পারে নিরার জ্ঞান ফিরেছে।
নিরা গোজ্ঞানির মতো শব্দ করতে থাকে। হঠাৎ করেই সে দেখতে পায় একটা ছায়ামূর্তি ঘরে প্রবেশ করে। তারপরেই ছাচচচচ করে একটা শব্দ করে কে জেনো একটা ম্যাচের কাঠি দিয়ে মোম বাতি জ্বালাল।
মোমবাতিটা নিরার দিকে এগিয়ে আসে নিরা দেখতে পায় তার হাতে রক্ত সে বুঝতে আরে আর মাথায় আঘাতে বোধয় ফেটে রক্ত ঝরেছে নিজেকে খুব ক্লান্ত মনে হতে থাকে।
মোমবাতির আলোয় স্পষ্ট হয়ে যায় ছায়ামূর্তিটা আরিয়ান।
নিরার শরীর হিমশিতল হয়ে যায় যখন সে আরিয়ানের হাতে একটা ধারাল ছুড়ি দেখতে পায়। গোজ্ঞাতে থাকে সে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে।
আরিয়ান অপকৃতের মতো বলতে থাকে
-নিরা। তোর হাসতে খুব ভালো লাগে তাই না। জানিস আমারও না খুব ভালো লাগতো হাসি শুনতে । আমার মা খুব সুন্দর করে হাসতে পারতো। কিন্তু ওরা না মাকে ফেরে ফেললো আমার মাকে ধরে কতো ডাকলাম মা কোনো কথাই বললো না। আর হাসেনি মা । কিন্তু তুই না একদম আমার মায়ের মতো করে হাসিস । জানিস এটা না আমার একদম ভালো লাগে না। তুই কেনো আমার মায়ের মতো করে হাসবি , আমার মা ই শুধু ওরকম হাসবে।
নিরা উমমম উমম করে আওয়াজ করতে থাকে।
আরিয়ান নিরার গালে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বলে
-ওই চুপ একদম চুপ । আমি কথা বলতেছি না।
নিরা ভয়ে কুকড়ে যায় ,। চোখ বেয়ে শুধু পানি পড়তে থাকে।
আরিয়ান আবার শুরু করে
-নিরা জানিস আমি এখন কি করবো । আমি এখন তোর একটা একটা করে আঙ্গুল কেটে ফেলবো কিন্তু তুই হাসবি । যদি হাসিস তাহলে তোকে ছেড়ে দিবো না হলে তোকে মেরে ফেলবো।
নিরা চারপাশে অন্ধকার দেখতে থাকে।তার কাছে সব কিছুই একটা ভয়ানক দুঃস্বপ্ন মনে হতে থাকে।নিজের সর্বশক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিয়ান নিরার ডানহাতের আঙ্গুল একটা একটা করে কেটে ফেলে রক্তে মাখামাখি হয়ে যায় আরিয়ানের হাত । নিরা চিৎকার করতে থাকে মুখের টেপ থাকা সত্তেও সেই চিৎকার স্পষ্ট হয়ে উঠে।
চোখ লাল হয়ে যায় নিরার । সারা শরীর যন্ত্রনায় ভয়ে যায়। কপাল থেকে অনবরত ঘাম ঝরতে থাকে।
আরিয়ান পৈশাচিকভাবে হাসতে থাকে কিরে নিরা হাসবি না । একটু হাস না তাহলে তোকে ছেড়ে দিবো হাহাহহাহাহহাহ
আরিয়ান নিরার মুখের টেপ অর্ধেকটা খুলে ফেলে
নিরা চিৎকার করতে থাকে বাচাও বাচাও …. আকুতি মিনতি করে কাদতে কাদতে বলতে থাকে , আরিয়ান আমাকে ছেড়ে দে আমি বাঁচতে চাই আরিয়ান । আমাকে ছেড়ে দে আরিয়া….
আরিয়ান আবার টেপ আটকে দেয় মুখে
-দেখ নিরা তুই হাসলি না কেনো আমি তোকে বললাম না হাসলে তোকে ছেড়ে দিবো
সে ছুড়িটা নিয়ে নিরার ডান হাতের চামড়া ছিড়ে ফেলে নিরা ব্যাথায় মৃত্যুর আর্তনাদ করতে থাকে।
আরিয়ান আবার মুখের টেপ খুলে ফেলে নিরা কাদতে কাদতে ভাঙ্গা গলায় চিৎকার করে আরিয়ানের কাছে প্রান ভিক্ষা করতে থাকে।
আরিয়ান একটা ছুড়ি সজোরে নিরার বাম হাতে গেথে দেয় নিরা চিৎকার করে ওঠে, আরিয়া!………..ন।
নিরা একবার হাস না। প্লিজ আরিয়ান জিঘাংসক এক বিশ্রী উল্লাস করতে থাকে ।
হাহাহাহাহাহহাহাহা
এবার আরিয়ান আরো হিংসাক্তক হয়ে ওঠে সে নিরার চুলের মুঠি ধরে বলতে থাকে নিরা তোর গুলো না খুব সুন্দর । আমি একটা নিয়ে নিচ্ছি কিছু মনে করিস না।

নিরা এবার নিজের সমস্ত বল দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। মাথা ঝাকাতে থাকে, কাদতে থাকে।

হাতের ছুড়িটা দিয়ে নিরার দিকে এগোতে থাকে। এই শেষবারের মতো নিরা এই পৃথিবীর আলো দেখতে পেলো।

নিরার চোখ তুলে ফেলে
আরিয়ান।রক্ত ছিটে আরিয়ানের মুখে আসে।
এই শেষবারের মতো নিরা আর্তচিৎকার করে।
ধীরে ধীরে নিরার আর্তনাদ কমে আসে । মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে
-এই নিরা মরে গেলি নাকি । না হেসেই মরে গেলি । এই নিরা হাসবি না
হাহাহহাহা
আরিয়ান ছুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে নিরার গায়ে, ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় নিরার দেহ । রক্তনিয়ে এক পৈশাচিক আনন্দ খেলা খেলতে থাকে আরিয়ান, তার সারা শরীর রক্তে মাখামাখি হয়ে যায়।
ওই মূহুর্তেই হোটেল বয়টা আসে সে নিরার মৃত দেহ দেখে এক চিৎকার করে দৌড়ে নিচে চলে যায় ।
মিনিট পাচেকেই লোক জড়ো হয়ে যায়। কেউ আরিয়ানকে ছোবার সাহস পায় না।আরিয়ান নিরার মৃত দেহের পাশেই বসে থাকে। রক্তে মাখা আঙ্গুল কামড়াতে থাকে।পুলিশে খবর দেয়া হয়, তারা এদে আরিয়ানকে ধরে নিয়ে যায়। আর নিরার দেহ পুলিশ কাস্টাডিতে নেয়া হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা যায় আরিয়ান মানসিকভাবে অসুস্থ । আরিয়ানের বাবা একজন ট্যাক্স অফিসার ছিলেন তিনি খুবই সৎ লোক ছিলেন। আরিয়ান ছিলো তার মায়ের মধ্য মণি হাসি খুশি থাকতে বেশ পছন্দ করতেন। আরিয়ান যখন খুব ছোটো তখনই তার মা বাবা এলাকার এক সন্ত্রাসের হাতে, তারই চোখের
সামনে নির্মমভাবে খুন হয়। ভাগ্যক্রমে সে বেচে যায় সে।
কিন্তু মা বাবার মৃত্যুর সময় সন্ত্রাসদের অমায়িক হাসি তার উপর বেশ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন আরিয়ানের মাকে হত্যার পর তার সামনেই রেপ করা হয় এবং ওই মূহুর্তের মায়ের আর্তচিৎকার আর সন্ত্রাসদের সেই পৈশাচিক হাসি।
পুরো ব্যাপারটা আরিয়ানের মনে দাগ ফেলে এরপরই তার অবচেতন হাসি ব্যাপারটা সহ্য করতে পারে।
এরপরই তার জীবনে নিরা আসে যে কিনা হাসতে খুবই পছন্দ করে। আরিয়ান নিরাকে ভালোবাসতো। ১৪ ফেব্রুয়ারি নিরাকে নিজের মনের কথা বলবে ভেবেছিলো। কিন্তু তার আগেই নিরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে ।
-জানিস আরিয়ান আজ আমি অনেক খুশি। রিফাত আমাকে আজ প্রপোজ করেছে।
আরিয়ানের হাতের গোলাপ পেছনে ফেলে দেয়। এরপর ২ বছরে আর দেখা হয়নি নিরার সাথে। এরপরই নিরার সাথে আবার দেখা।পুরোনো স্বৃতি তাকে দারুনভাবে নাড়া দেয়।
নিরার হাসি তার অবচেতন মস্তিককে নাড়া দেয় আর সে ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

এখানেই গল্পটা আরিয়ান শেষ করলো
হঠাৎ করে কলিংবেল বেজে উঠলো । আরিয়ান দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।
আরে নিরা এতোলেট করলি যে
…….
।।।
হ্যা এতক্ষন ধরে আরিয়ান গল্প লিখছিলো আর নিরাও মারা যায় নি। নিরা সবে মাত্র এলো।কিন্তু নিরা কি জানে কিছুক্ষন পর তার সাথে কি কি হতে যাচ্ছে।

(সমাপ্ত)

মুহাহাহহাহাহাহহায়া
——-ফিনিক্স এর অনুভুতি ——