প্রতিটি স্মার্টফোনেরই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আপনার ফোনটি হয়তো দেখতে ভালো হতে পারে কিন্তু একেবারে পারফেক্ট স্মার্টফোন তা কিন্তু নয়। আপনার বন্ধুর ফোনটি হয়তো সফটওয়্যারের দিক দিয়ে সেরা। আবার আপনার মোবাইলের ক্যামেরা হয়তো ভালো কিন্তু আপনার বোনের ফোনটি আবার ব্যাটারি লাইফের দিক থেকে এগিয়ে।

এমন হলে কেমন হতো যদি আপনি নিজেই একটি পারফেক্ট স্মার্টফোনের ডিজাইন করলেন। সত্যি বলতে পারফেক্ট স্মার্টফোনের কথা ভাবাটা উদ্ভট কল্পনা ছাড়া কিছুই না। পারফেক্ট স্মার্টফোন বলে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু স্মার্টফোন আছে যাদের কিছু অংশকে আমরা হয়ত পারফেক্ট এর কাছাকাছি বা এদের কিছু নির্দিষ্ট ফিচারকে নিখুঁত ধরে নিতে পারি।

পারফেক্ট স্মার্টফোন

পারফেক্ট স্মার্টফোন

একেকটি ফোনের একেক অংশ জুড়ে দিয়ে যদি কোন ফোন তৈরি করা যায়, অনেকটা ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন টাইপের ফোনের মত তাহলে হয়তো উপরের ছবির মত হতো।

এবার আসুন দেখি কোন স্মার্টফোনের কোন অংশটি পারফেক্ট বা এর কাছাকাছি।

বডি: iPhone 6
বাহির থেকে দেখতে কেমন এর উপর ভিত্তি করে মোবাইল সেট বেছে নিতে বললে আইফোনই যে সবার প্রথম পছন্দ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আইফোনের মধ্যে দেখতে সবচেয়ে সেরা হল আইফোন সিক্স। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় খেয়াল করার মত, আর তা হল স্যামসাং এর এস ৬ ও দেখতে প্রায় আইফোন সিক্সের মতই। তবে মনে হয়না এটি কেবলই কাকতালীয় কোন ব্যাপার।

আর আইফোন সিক্সের স্প্রিং এর মত বাটন আর কোনাগুলো বাঁকানো হওয়ার কারণে এটি ব্যবহার অত্যন্ত আরামদায়ক। আর আইফোন সিক্স অবিশ্বাস্য রকমের পাতলা একটি ডিভাইস। যেটি এখন হালের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সফটওয়্যার: Moto X

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ যা ললিপপ নামেও পরিচিত। এখন পর্যন্ত একটা অপারেটিং সিস্টেমের যতটা ভালো হওয়া যায় তার সবই এখানে আছে। তবে Moto X অ্যান্ড্রয়েডের মাঝেই এমন কিছু পরিবর্তন এনেছে যা এখন বাজারের সেরা স্মার্টফোন সফটওয়্যারে পরিণত হয়েছে।

এটি সত্যিকার অর্থেই স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে, কারণ এর কিছু ফিচারের কারণে এটি আপনার বর্তমান অবস্থা বুঝতে সক্ষম। অর্থাৎ আপনি এখন ঘুমিয়ে আছেন নাকি মিটিং এ আছেন নাকি গাড়ি ড্রাইভ করছেন। আপনার অবস্থা অনুযায়ী এটি স্বয়ংক্রিয় ভাবেই আপনার মোবাইলে আসা মেসেজ পড়ে দিবে বা কে ফোন দিল সেটি নিজেই আওয়াজ করে বলবে। অনেক ক্ষেত্রে ফোন ধরতে না পারলে যিনি ফোন দিয়েছেন তাকে ছোট কোন মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দিবে আপনার ব্যস্ততার কথা। আপনি পকেট থেকে ফোন বের করলেই আগে আপনাকে সময় দেখাবে। কল আসলে আপনার আঙ্গুলের ইশারায়ই এটি সাইলেন্ট হয়ে যাবে। ছবি তুলতে চান ফোনে? হাল্কা করে ঝাঁকালেই ক্যামেরা অন হয়ে যাবে, ফোন লক করা থাকলেও কোন সমস্যা নেই। কোন নোটিফিকেশন আসলে তাতে ট্যাপ করে সহজেই একনজর দেখে নিতে পারবেন কে আপনাকে নক করছে।
এই ফোনটি আসলেই স্মার্টফোনের মত কাজ করে। অন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে অনেক অনেক ফিচার থাকলেও বেশিরভাগই আমাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ।

আর আইফোন কখনই তাদের সফটওয়্যার কে সেরা বলতে পারবেনা যতদিন তাদের আই ক্লাউডের উপর নির্ভর করতে হবে

ক্যামেরা: LG G4
স্মার্টফোন যতই দামিই হোক না কেন, ক্যামেরা কোয়ালিটির ক্ষেত্রে “পয়েন্ট অ্যান্ড শুট” ক্যামেরার চেয়ে বেশিকিছু করা যায়না। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম LG G4 সেটটি। এটাকে সহজেই ডিএসএলআর এর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা যায়।

১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাযুক্ত LG’র এই সেটটি মাত্র ০.২৭৬ সেকেন্ডে ছবি তুলতে সক্ষম আর এর ক্যামেরা অ্যাপটি চালু হতে সময় নেয় মাত্র ০.৬ সেকেন্ড। আর এ ক্যামেরায় আছে লেজার সমৃদ্ধ অটো ফোকাস। এতে আরও আছে কালার স্পেকট্রাম সেন্সর, যেটি ছবি তোলার পূর্বেই ছবিটি দেখতে কেমন হবে তা বুঝতে সাহায্য করে। আর এই ক্যামেরায় ছবি অটো স্ট্যাবিলাইজ করার ক্ষমতা থাকায় আপনি চলন্ত অবস্থাতেও স্থির ছবি তুলতে পারবেন।

G4 সেটটির ক্যামেরায় ক্যামেরার শাটার স্পীড, আইএসও লাইট সেন্সিটিভিটি, হোয়াইট ব্যালেন্স সহ সকল খুঁটিনাটি বিষয় আপনি নিজেই কন্ট্রোল করার সুযোগ পাবেন। যার মাধ্যমে আপনি প্রফেশনাল গ্রেডের ছবি তুলতে সক্ষম হবেন।

ক্যামেরার লাইটের ক্ষেত্রেও এই ক্যামেরা এগিয়ে আর এর ইমেজ সেন্সর বাজারের একই শ্রেণির অন্যান্য অন্যান্য ফোনের চেয়ে ৪০ শতাংশ বড়। আর ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরাটিও অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা।

স্ক্রিন: Galaxy S6

গ্যালাক্সি এস সিক্স এর স্ক্রিন এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ। এটি যথেষ্ট উজ্জ্বল আর এর রঙের ব্যবহারও আরামপ্রদ। আর সব মিলিয়ে বললে দেখার জন্য একদম পারফেক্ট।

এর স্ক্রিন দেখলে মনে হতেই পারে আলট্রা হাই ডেফিনিশন টিভি আপনার হাতে। স্ট্যান্ডার্ড এইচডি ডিসপ্লের চেয়ে এর রেজ্যুলেশন ও পিক্সেলের ঘনত্ব ৪ গুন বেশি।

স্পিকার: HTC one M9

এইচটিসি এম ৯ এর বুম সাউন্ড স্পিকার বাজারে এর প্রতিদ্বন্দ্বী সেটগুলো থেকে তো বটেই, এছাড়া অন্য যেকোনো সেটের স্পিকার থেকে অনেকদূর এগিয়ে আছে।

সেটটির সামনের দিকে দুটি ফ্রন্ট ফেসিং স্টেরিও স্পিকার আছে। এটিই মূলত এই ফোনটিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। অন্য ফোনের স্পিকারগুলো থাকে পিছনে আর ছোট ছোট ফুটোর মাধ্যমে আওয়াজ বের হবার ব্যবস্থা করা থাকে। সেক্ষেত্রে এই সেটটি অনন্য।

শুধু জোরালো আওয়াজই নয়, এতে আছে আকর্ষণীয় সফটওয়্যার আর ডলবি ডিজিটাল ভার্চুয়াল সাউন্ড সিস্টেম। এতে আপনার অতিরিক্ত কোন স্পিকার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।

ব্যাটারি: Droid TurboTurbo

ড্রয়েড টার্বোর ৩৯০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি সত্যিই অতুলনীয়। এটি আইফোন সিক্সের প্রায় দ্বিগুণ। আর আইফোন সিক্স প্লাসের চেয়ে এ ব্যাটারি প্রায় ৩০ শতাংশ এবং গ্যালাক্সি নোট ৪ এর চেয়ে ২১ শতাংশ বড়।
ব্যবহারকারীদের মতে এটি প্রায় ২দিনের ব্যাকআপ দিতে পারে। আর অনেক বেশি ব্যবহার করলেও এটি অন্তত দেড় দিনের ব্যাকআপ দিতে পারে। আর এর সাথে থাকা বিশেষ ধরনের টার্বো চার্জার দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিট চার্জ করেই আপনি বেশ কয়েক ঘণ্টা কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।

ব্যাটারির কারণে সেটটির দাম একটু বেশি হলেও ব্যাটারি লাইফ চিন্তা করলে তা তেমন কিছুই না।

ম্যাটেরিয়াল: Nokia Lumia 1520

মাইক্রোসফটের উঁচু শ্রেণির সেটগুলোতে ব্যবহার করা হালকা রঙের পলি কার্বনেট শেলগুলো চমৎকার। এটি সহজেই ধরে রাখা যায়। আর এ ফোনে কখনই স্ক্র্যাচ পড়বে না। অর্থাৎ আপনার সেটটির পিছনে রঙ যদি নীল হয়ে থাকে তবে এটি নীল ই থাকবে। অন্য কোন রঙ ধারণ করবেনা।

প্রসেসর: LG G4

Samsung Galaxy S6 বা HTC one M9 দুটি সেটই বিশ্বখ্যাত মোবাইল চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমে’র ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮১০’ মডেলের চিপ ব্যবহার করেছে, অন্যদিকে LG G4 ব্যবহার করেছে ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮০৮’ মডেলের চিপ। এক্ষেত্রে গ্যালাক্সি বা এইচটিসি টেকনিক্যালি আর গতির দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও এই চিপের সহজেই অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে। এক্ষেত্রে এগিয়ে গিয়েছে এলজি। আপনি নিশ্চয়ই অত্যধিক গরম কোন কিছু পকেটে নিয়ে ঘুরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না?

ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর: iPhone 6

একটি পারফেক্ট স্মার্টফোনে অবশ্যই সহজে এবং নিরাপদে লগ ইন করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর এক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হতে পারে সবচেয়ে সহজ এবং আধুনিক উপায়। আর এ প্রযুক্তিতে সব থেকে এগিয়ে আইফোন ৬।

গ্যালাক্সি এস সিক্স এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের সাথে এর তুলনা করলে খুব বেশি তফাত পাওয়া না গেলেও, দ্রুততার দিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে আইফোন ৬।