আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে স্মার্টফোন জায়ান্ট স্যামসাং তাদের এবছরের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস স্যামাসাং গ্যালাক্সি এস৭ স্মার্টফোনটির দুটি ভ্যারিয়েন্ট প্রকাশ করেছে। একটি হচ্ছে ইউএস ভ্যারিয়েন্ট যাতে যুক্ত করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ কোয়াড-কোর প্রসেসর এবং অন্যটি হচ্ছে ইন্টারন্যশনাল ভার্সন যাতে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সিনোজ ৮৮৯০ অক্টা-কোর প্রসেসর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই দুটি ডিভাইসের মধ্যে কোনটি বেশি ভালো? চলুন, জেনে নেয়া যাক!

 

 

স্ন্যাপড্রাগন বনাম এক্সিনোজ (4)

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক দুটি ভ্যারিয়েন্টের মধ্যকার মূল পার্থক্যসমূহ।

গ্যালাক্সি এস৭ স্ন্যাপড্রাগন বনাম এক্সিনোজ ভ্যারিয়েন্ট পার্থক্য

স্ন্যাপড্রাগন বনাম এক্সিনোজ (2)

ইউএস ভ্যারিয়েন্টঃ

  • প্রসেসর – কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০, কোয়াড-কোর, ১৪ ন্যানোমিটার।
  • গ্রাফিক্স কার্ড – অ্যাড্রিনো ৫৩০, ৬২৪ গিগাহার্জ।
  • মেমোরি – ডুয়াল-চ্যানেল এলপিডিডিআর৪ ১,৮৬৬ মেগাহার্জ।

 

ইন্টারন্যাশনাল ভ্যারিয়েন্টঃ 

  • প্রসেসর – স্যামসাং এক্সিনোজ ৮৮৯০, অক্টা-কোর, ১৪ ন্যানোমিটার।
  • গ্রাফিক্স কার্ড – মালি টি৮৮০এমপি১২, ৬৫০ মেগাহার্জ।
  • মেমোরি – ডুয়াল-চ্যানেল এলপিডিডিআর৪ ১,৭৯৪ মেগাহার্জ।

 

এক্সিনোজ বনাম স্ন্যাপড্রাগন: পারফর্মেন্স 

 

দুটি ভ্যারিয়েন্টের ব্রাউজার বেঞ্চমার্ক এবং মাল্টিকোর বেঞ্চমার্কের ফলাফল থেকে জানা গিয়েছে যে কোয়ালকম এক্ষেত্রে এক্সিনোজ থেকে এগিয়ে রয়েছে।

স্ন্যাপড্রাগন বনাম এক্সিনোজ (3)

 

 

এক্সিনোজ বনাম স্ন্যাপড্রাগন: এফিসিয়েন্সি 

 

যেহেতু এক্সিনোজের প্রসেসরের কোর সংখ্যা স্ন্যাপড্রাগন থেকে দ্বিগুণ ফলে স্বাভাবিকভাবেই এক্সিনোজ ভ্যারিয়েন্টের ডিভাইসটি স্ন্যাপড্রাগন থেকে বেশি পাওয়ার কনজিউম করবে। তাই এক্ষেত্রেও এগিয়ে থাকবে ইউএস ভ্যারিয়েন্টটিই।

 

 

এক্সিনোজ বনাম স্ন্যাপড্রাগন: মোডিফিয়াবিলিটি 

এটি একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়! প্রসেসরের উপর ভিত্তি করেই অনেক থার্ড অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করা সম্ভব হয়ে থাকে। বিষয়টি এক্ষেত্রে কিছুটা  কমপ্লেক্স। অন্য একটি দিক হচ্ছে কোন ভার্সনটি সহজে রুট করা সম্ভব হবে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও ইন্টারন্যাশনাল ভার্সনটি এক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল কেননা তখন সিএফ-অটোরুটের সাহায্যে এস৭ এবং এস৭ এজের জন্য কাস্টম রিকোভারি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, মার্চের ১৮ তারিখের পর বুটলোডার আনলক সুবিধার মাধ্যমে ইউএস ভ্যারিয়েন্টটি এক্ষেত্রেও এগিয়ে বসে আছে বর্তমানে!

স্ন্যাপড্রাগন বনাম এক্সিনোজ (1)

 

 

 

শেষ কথা – মূলত দুটি মডেল পাশাপাশি রেখে তুলনা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি, তাই ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন বিশ্বস্ত সোর্স মিলিয়েই এই তুলনাগুলো দাঁড় করানো হয়েছে। যাই হোক, এই তুলনাগুলো থেকে কিন্তু সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে ইন্টারন্যাশনাল ভার্সনের চাইতে ইউএস ভ্যারিয়েন্টটি বেশ কিছু দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। আর আমার মতে দুটি ভ্যারিয়েন্টের ডিভাইস বের করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিরও এগুলোর পারফর্মেন্স এবং ইউজার রিভ্যিউ পাওয়া সহজ হয়ে যাবে এবং পরবর্তিতে আমরা আরও এফিসিয়েন্ট এবং শক্তিশালী ডিভাইস পাবো প্রতিষ্ঠানটি থেকে।