ভোক্তা মহলে নতুন নত্য নিয়ে আসার এক অন্যতম নাম হচ্ছে ওয়ালটন। এরি ধারাবাহিকতায় তারা এবার নিয়ে এলো প্রিমো এইচ৪ । বিভিন্ন সময়ে তারা ভোক্তা মহলকে উপহার দিচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও আরও এডভান্টেজ বহুল ফিচার সম্বলিত স্মার্টফোন। প্রিমো এইচ৪ হচ্ছে ওয়ালটনের এ যাবতকালীন সবচেয়ে গুড লুকিং একটি ফোন। দেশীয় স্মার্টফোন বাজারে নতুন সংযোজন ওয়ালটনের প্রিমো এইচ সিরিজের স্মার্টফোন প্রিমো এইচ৪ Primo H4; চমৎকার ডিজাইনের কারণে এই ফোনটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়তে সক্ষম। এছাড়া ৮,৭৯০ টাকা মূল্যের এই ফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম, ওটিজি সাপোর্ট, ফ্রন্ট ক্যামেরায় ফ্ল্যাশসহ অন্যান্য ফিচার তো রয়েছেই। বাজারে আসা নিত্যনতুন সব স্মার্টফোনের হ্যান্ডস-অন রিভিউ পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে যুগটেক বরাবরই সচেষ্ট, আর সেই ধারাবাহিকতায় এবারে থাকছে Walton Primo H4 এর Hands-on Review যুগ পাঠক, চলুন তাহলে ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি, ডিজাইন, ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স, বেঞ্চমার্ক স্কোর, ক্যামেরা পারফরম্যান্স প্রভৃতি বিষয় দেখে নেওয়া যাক।

প্রিমো এইচ৪ রিভিউ Primo H4

প্রিমো এইচ৪ (6)

 

রিভিউয়ের শুরুতে একনজরে Primo H4 এর উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ দেখে নিই-

  • অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ
  • ৫ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে
  • ১.৩ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ১ গিগাবাইটের র‍্যাম
  • মালি ৪০০ জিপিউ
  • ৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা
  • ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ৮ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরী
  • ডুয়েল সিম
  • ২,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি

প্রিমো এইচ৪ (5)

 

বিস্তারিত রিভিউয়ের শুরুতেই আমরা দেখে নিবো Primo H4 এর আনবক্সিং: Primo H4 কিনলে আপনি এর সাথে যা যা পাচ্ছেন-

  • চার্জার অ্যাডাপ্টার
  • ডাটা ক্যাবল
  • ইয়ারফোন
  • ইউজার ম্যানুয়াল
  • ওয়ারেন্টি কার্ড

প্রিমো এইচ৪ (5)

 

অপারেটিং সিস্টেমঃ Primo H4 ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডের আপডেটেড সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এতে OTA আপডেট থাকায় পরবর্তীতে আরও আপডেট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে

প্রিমো এইচ৪ (17)

প্রিমো এইচ৪ (18)

বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইনঃ আগেই বলেছি ডিজাইনের দিক থেক বেশ চমৎকার একটি ফোন Primo H4, ফোনটির বডি দেখতে অনেকটাই মেটালিক, এছাড়া এটি হাতে নিলেও বেশ দারুণ ফিল হয়। এর একপার্শ্বের অংশে রয়েছে ভলিউম কী আর অন্যপার্শ্বে পাওয়ার কী, এর উপরের অংশে রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্ট ও ইউএসবি ২.০ পোর্ট ।

 

প্রিমো এইচ৪ (8)

১৪৩ মিলিমিটার উচ্চতার এই ফোনটি প্রস্থে ৭১ মিলিমিটার আর এর পুরুত্ব ৮ মিলিমিটার। ব্যাটারিসহ এর ওজন ১৩৬ গ্রাম।

প্রিমো এইচ৪ (9)

 

Primo H4 স্মার্টফোনটির পেছনের দিকে উপরের অংশে আছে রিয়ার ক্যামেরার লেন্স ও ফ্ল্যাশলাইট আর নিচের দিকে রয়েছে স্পীকার। এছাড়া সম্মুখভাগে ফ্রন্ট ক্যামেরা, ফ্ল্যাশ, সেন্সর, স্পীকার প্রভৃতি তো রয়েছেই।

প্রিমো এইচ৪ (10)

ডিসপ্লে: এই ফোনে ৫ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, আর এর ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন হলো ১২৮০x৭২০ পিক্সেলের।

প্রিমো এইচ৪ (7)

 

ইউজার ইন্টারফেস: চলুন, এবারে অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ চালিত এই ফোনের ইউজার ইন্টারফেস দেখে নেওয়া যাক- নোটিফিকেশন বার:

প্রিমো এইচ৪ (7)

 

হোমস্ক্রীন:

প্রিমো এইচ৪ (8)

 

অ্যাপ ড্রয়ার:

প্রিমো এইচ৪ (9)

 

ডায়ালপ্যাড:

প্রিমো এইচ৪ (10)

সিপিউ ও চিপসেট: এন্ট্রি লেভেলের স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনসমূহে সাধারণত মিডিয়াটেক চিপসেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, ব্যতিক্রম ঘটেনি Walton Primo H4 এর ক্ষেত্রেও। ১.৩ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসরসমৃদ্ধ এই ফোনে মিডিয়াটেকের MT6580 চিপসেট ব্যবহৃত হয়েছে। এতে মাল্টিটাস্কিং, গেমিং প্রভৃতি বেশ স্মুথলি করা যায়।

প্রিমো এইচ৪ (4)

 

জিপিউঃ ওয়ালটন তাদের এই ফোনে মালি-৪০০ জিপিউ ব্যবহার করেছে। মূল্য বিবেচনায় এই ফোনের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি কিংবা গেমিং পারফরম্যান্স মন্দ নয়।

প্রিমো এইচ৪ (3)

মেমোরী: Primo H4 স্মার্টফোনটিতে ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরী দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪.৭ গিগাবাইট ব্যবহারযোগ্য। এই ফোনের মেমোরীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এতে রয়েছে ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধা,তাই এর পুরো ইন্টারনাল মেমোরীই অ্যাপ ইন্সটলের জন্য ব্যবহার করা যাবে। ফলে যারা প্রচুর অ্যাপ ইন্সটল করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই ফোন হতে পারে বেশ পছন্দের।

প্রিমো এইচ৪ (14)

 

 

র‍্যাম: এই ফোনে রয়েছে থাকা ১ গিগাবাইটের র‍্যামের মধ্যে প্রায় ৯৬৮ মেগাবাইট ব্যবহারযোগ্য।

প্রিমো এইচ৪ (15)

 

ক্যামেরা: Primo H4 স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা। নয়েজবিহীন ছবি তোলা নিশ্চিত করতে এর ক্যামেরায় CMOS সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ক্যামেরায় অটোফোকাস, এলইডি ফ্ল্যাশ প্রভৃতি সুবিধাতো থাকছেই। Primo H4 এর ক্যামেরা ইন্টারফেস –

প্রিমো এইচ৪ (11)

প্রিমো এইচ৪ (12)

প্রিমো এইচ৪ (13)

প্রিমো এইচ৪ (12)

 

Primo H4 এর ক্যামেরায় তোলা ছবিঃসেলফি তোলা কিংবা ভিডিও কলিংয়ের জন্য আছে এই ফোনে আছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, ফলে যারা সেলফি তুলতে ভালোবাসেন তাদের নিকট এই ফোন হতে পারে বেশ পছন্দের। Primo H4 দিয়ে তোলা সেলফি-মাল্টিমিডিয়া: Primo H4 এ রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক। এর সাথে যে হেডফোনটি দেওয়া হয় তার সাউন্ড কোয়ালিটি মোটামুটি মানের, এর অডিও সাউন্ড কোয়ালিটিকে বেশ ভালো বলা যায়। আর এই ফোনে আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহৃত হওয়ায় এতে দারুণভাবে ভিডিও উপভোগ করা যায়। এই ফোনে ১০৮০ পি ফুল এইচডি ভিডিও কোন ধরণের ল্যাগ ছাড়াই চলে।

প্রিমো এইচ৪ (19)

গেমিং পারফরম্যান্স: এন্ট্রি লেভেলের এই ফোনটি সাধারণ গেমিংয়ের জন্য মন্দ নয়। কোয়াডকোর প্রসেসর ও ১ গিগাবাইট র‍্যামবিশিষ্ট এই ফোনে বিভিন্ন ধরণের গেম বেশ স্মুথলি খেলা যায়। এই ফোনে হালের জনপ্রিয় বিভিন্ন গেম যেমন – ফিফা ১৬, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস, কিংডম রাশ, টেম্পল রান ওজেড প্রভৃতি কোন ধরণের ল্যাগিং ছাড়াই খেলা গেছে।

প্রিমো এইচ৪ (3)

কানেক্টিভিটি: এই ফোনে ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি আছে জিপিএস নেভিগেশন সুবিধা। আর ওয়ালটনের অধিকাংশ স্মার্টফোনের ন্যায় Primo H4 এ-ও রয়েছে ২টি সিম ব্যবহারের সুবিধা । এর একটি সিম স্লট মাইক্রো-সিম সাপোর্টেড আর অন্যটি মিনি সিম সাপোর্টেড, এছাড়া এর উভয় সিমেই থ্রিজি সুবিধা উপভোগ করা যায়। ব্যাটারি: ৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে সংবলিত Primo H4 এ ২,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ব্যাটারী ব্যাকআপ মোটামুটি, একবার ফুল চার্জ দিলে টানা ৪.৫ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। এছাড়া একবার ফুল চার্জে টানা প্রায় ৫ ঘন্টা এইচডি ভিডিও উপভোগ করা যায়।

প্রিমো এইচ৪ (11)

বেঞ্চমার্ক: কোন ডিভাইসের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সাধারণত বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাই করা হয়ে থাকে। Primo H4 এর বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাইয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ AnTuTu বেছে নেওয়া হয়েছিলো। AnTuTu তে এর স্কোর এসেছে ১৯,৯৯৯; এন্ট্রি লেভেলের ফোনে যা উল্লেখ করার মতো।

প্রিমো এইচ৪ (2)

AnTuTu স্কোরের দিক থেকে Xiaomi Mi2, Asus Zenfone 5 প্রভৃতির পর Primo H4 এর অবস্থান।

প্রিমো এইচ৪ (1)

বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের আরেক অ্যাপ Nenamark এ Primo H4 এর স্কোর এসেছে ৫৬

প্রিমো এইচ৪ (6)

স্পেশাল ফিচার: স্পেশাল ফিচার হিসেবে এই ফোনটিতে রয়েছে স্মার্ট স্লাইড, নোটিফিকেশন লাইট প্রভৃতি দারুণ সব ফিচার, আর ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধার কথা তো ইতোঃপূর্বে বলেছিই! এছাড়া এই ফোনে OTG এবং OTA সুবিধা রয়েছে।

প্রিমো এইচ৪ (16)

মূল্য: আকর্ষণীয় ডিজাইন ও চমৎকার সব ফিচারসংবলিত Primo H4 স্মার্টফোনটির মূল্য ৮,৭৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ। স্পেসিফিকেশন ও ওয়ালটনের সমসাময়িক অন্যান্য ফোনের তুলনায় এই মূল্য আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা বেশি।

প্রিমো এইচ৪ (1)

Primo H4 এর ভালো লাগার দিকসমূহ:

  • ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম
  • আকর্ষণীয় ডিজাইন
  • ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধা
  • ফ্রন্ট ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ
  • ওটিজি সাপোর্ট

Primo H4 এর সীমাবদ্ধতা: এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন Primo H4 এ MTK6580 চিপসেট ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল মালি-৪০০ জিপিউ এর ব্যবহার ব্যতীত তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েনি। তবে এর মূল্য কিছুটা কম হলে ভালো হতো।

প্রিমো এইচ৪ (4)

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: যারা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় নানা ফিচার সংবলিত স্মার্টফোন কিনতে চান সেই সাথে চান আকর্ষণীয় ডিজাইন তাদের জন্য ওয়ালটনের Primo H4 হতে পারে আদর্শ পছন্দ। বিশেষ করে ফ্রন্ট ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ থাকায় Primo H4 সেলফিপ্রেমীদের নিকট বেশ জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

প্রিমো এইচ৪ (2)

দেশীয় ক্রেতাদের হাতে সুলভ মূল্যে অপেক্ষাকৃত মানসম্পন্ন স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে ওয়ালটন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। ভবিষ্যতে আরও উন্নত কনফিগারেশনের স্মার্টফোন সুলভমূল্যে বাজারে আনবে ওয়ালটন – এমনটাই প্রত্যাশা। সবাই ভালো থাকুন আর যুগটেক এর সাথেই থাকুন।