৩০ বছর আগে ঠিক এই সপ্তাহেই পার্সোনাল কম্পিউটারের বিপ্লবের শুরু। ১৯৮৫ সালের ২০ নভেম্বর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এর প্রথম সংস্করণ বাজারে ছাড়ে। আজকের ব্যবহৃত উইন্ডোজের আধুনিক সংস্করণ হয়ে ওঠার মাইলফলক ছিল সেটি। যদিও উইন্ডোজ ১০ উইন্ডোজ ১-এর থেকে দেখতে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিন্তু এতে অনেক মৌলিক বিষয় যেমন- স্ক্রল বারস, ড্রপ ডাউন মেনুস, আইকনস, ডায়ালগ বক্স, নোটপ্যাড, এমএস পেইন্ট প্রভৃতি রয়েছে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ এ মাউসের ব্যবহার শুরু হয়। সেসময় এমএস ডস ব্যবহার করতে হলে শুধুমাত্র টাইপ দিয়ে কমান্ড করতে হতো। কিন্তু মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ তে মাউস ছিল এবং কোন কিছু পয়েন্টিং ও ক্লিক করা যেত। আসল ম্যাকিনটোশে মাউসের ব্যবহার কাস্টমারদের এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়। কিন্তু সেসময় অভিযোগ আসে যে মাইক্রোসফট মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১ কিবোর্ডের থেকে মাউসের ব্যবহারেই বেশি জোর দিয়েছিল। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজের প্রথম সংস্করণটি তেমন জনপ্রিয়তা না পেলেও এটি অ্যাপল, আইবিএমের সাথে মাইক্রোসফটের জনসাধারণের কাছে কম্পিউটিং সিস্টেম পৌছে দেওয়ার প্রতিযোগিতাকে উস্কে দিয়েছিল। ১৯৮৫ সালে বাজারে আসা মাইক্রোসফট মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ তে ২৫৬ কিলোবাইটের মেমোরি ও গ্রাফিক্স কার্ডের দু’টি ফ্লপি ডিস্ক ছিল। অনেকগুলো প্রোগ্রাম একত্রে চালাতে ব্যবহারকারীকে হার্ড ডিস্কসহ ৫১২ কিলোবাইটের মেমোরি সংযোজন করার দরকার পড়ত। মাত্র ২৫৬ কিলোবাইটের মেমোরি দিয়ে তেমন কিছু করাই যেত না। কিন্তু ঐ সংস্করণের ভিত্তিগুলোই ছিল শুরু। অ্যাপল যখন মাউসভিত্তিক জিইউআই নির্মাণে ব্যস্ত তখন, মাইক্রোসফট হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্য্যারের সমন্বয় করতে ব্যস্ত ছিল। মাইক্রোসফট তখনই আইবিএম পিসির জন্য কম দামী ‘পিসি ডস’ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে। আর বাজারে নিজেদেরকে সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ এর মাধ্যমে মাইক্রোসফট অ্যাপস এবং কোর সফটওয়্যারের দিকে গুরুত্ব দেয়। আইবিএম কয়েক বছর ধরে পিসি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যায় ছিল কিন্তু মাইক্রোসফট এর অপারেটিং সিস্টেমের অ্যাপ তৈরিতে সফটওয়্যার ডেভলপারদের খুব সহজেই ম্যানেজ করে। হঠাৎ করে পিসি নির্মাতারা মাইক্রোসফটের দিকে ঝুঁকতে থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উইন্ডোজে আকৃষ্ট হয়। হার্ডওয়্যারের জন্য সফটওয়্যার তৈরিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এই আগ্রহ মাইক্রোসফটকে একটি বিশাল প্লাটফর্ম প্রদান করে। এই প্ল্যাটফর্মটি আপনাকে উইন্ডোজের প্রত্যেকটি সংস্করণ আপগ্রেড করার সুযোগ দেয়।     মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৩০ বছর ধরে পার্সোনাল কম্পিউটার ব্যবস্থাকে শাসন করে চলেছে। মাইক্রোসফট ক্রমাগত উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ বের করে চলেছে এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। শুধুমাত্র আধুনিক স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেটের বাজারেই মাইক্রোসফট একটু সংগ্রাম করছে। তবে মাইক্রোসফট এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারে এবং মোবাইল বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সক্ষমও হতে পারে। ২০৪৫ সালে হয়ত এই একই সাফল্যে আমরা মাইক্রোসফটের আরো ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে পারব। এখন চলুন, দেখে নেওয়া যাক, এই ৩০ বছর ধরে কতটুক পরিবর্তিত হয়েছে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম?

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (1)

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের শুরু: উইন্ডোজ ১.০ জিইউআই, মাউস এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ নিয়ে আসে।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (2)

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ২.০ ১৬ বিট কম্পিউটিং ব্যবস্থায় ভিজিএ গ্রাফিক্স এবং দ্রুতগতির ওয়ার্ড, এক্সেল সংস্করণ নিয়ে আসে।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (3)

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৩.০ নতুন প্রোগ্রাম ও ফাইল ম্যানেজারসহ আরো ভালো ইউআই অন্তর্ভুক্ত করে। ৩.১ আপডেট নিয়ে মাইনসুইপারও এতে যোগ হয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (9)

উইন্ডোজ এনটি ৩.৫ এনটির দ্বিতীয় সংস্করণ। এটি গুরত্বপূর্ণ সিকিউরিটি ফাইল শেয়ারিং ফিচারস নিয়ে মাইক্রোসফটকে ব্যবসায়িকভাবে লাভ এন দেয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (5)

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৯৫ উইন্ডোজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আপডেটের একটি। মাইক্রোসফট ৩২ বিটের উইন্ডোজ তৈরি করে এবং এতে স্টার্ট মেনু চালু হয়। নবযুগীয় সব অ্যাপ্লিকেশন আসে এবং মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৯৫-এ ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের আপডেট আসে।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (6)

উউন্ডোজ ৯৫ এর সংশোধিত সংস্করণ হিসেবে আসা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৯৮-এ হার্ডওয়্যার সাপোর্ট এবং পারফরমেন্সের উন্নতি করা হয়। মাইক্রোসফট এর ওয়েবের দিকেও লক্ষ্য রাখে। অপারেটিং সিস্টেমটিতে কিছু উল্লেখযোগ্য অ্যাপস এবং ফিচারস যেমন: অ্যাক্টিভ ডেস্কটপ, আউটলুক এক্সপ্রেস, ফ্রন্টপেজ এক্সপ্রেস, মাইক্রোসফট চ্যাট এবং নেট মিটিং চালু হয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (8)

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এম ই মাল্টিমিডিয়া এবং হোম ইউজারদের কথা মাথায় রেখে বাজারে আসে। কিন্তু এটি পরিবর্তনশীল ছিল। এম ইতে প্রথম উইন্ডোজ মুভি মেকার আসে। তাছাড়া এটিতে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার এবং ইন্টারনেট এক্সপ্লোরের সংশোধিত সংস্করণ আসে।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (7)

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ২০০০ ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার কম্পিউটারের জন্য তৈরি করা হয়। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এন ট ‘র উপর ভিত্তি করে নতুন ফাইল প্রোটেকশন, ডিএলএল কেস, হার্ডওয়্যার প্লাগ/প্লে যুক্ত করে ডিজাইন করা হয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (11)

ব্যবসায়িক এবং হোম ইউজারদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়তা পায় মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি। উন্ডোজ এক্সপি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার কম্পিউটারের জন্য তৈরি করা হয়।হয়। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এন টি’র উপর ভিত্তি করে নতুন ফাইল প্রোটেকশন, ডিএলএল কেস, হার্ডওয়্যার প্লাগ/প্লে যুক্ত করে ডিজাইন করা হয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (10)

উইন্ডোজ ভিস্তা এম ই’র মত দর্শক জনপ্রিয়তা হারায়। ভিস্তা সংশোধিত সিকিউরিটি ফিচারসসহ আধুনিক অ্যারো ইউআই নিয়ে আসলেও ভিস্তার উন্নতি করতে মাইক্রোসফটের ৬ বছর লেগে যায়। আর এটি শুধুমাত্র নতুন হার্ডওয়্যারেই ভালোমত কাজ করত। এর ইউজার কন্ট্রোলটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম চক্রের একটি খারাপ অধ্যায় হিসেবে রয়েছে ভিস্তার নাম।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (1)

২০০৯ সালে আসা উইন্ডোজ ৭ ভিস্তার ব্যর্থতা দূর করে দেয়। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭-এ দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। এতে সংশোধিত ইউজার ইন্টারফেস এবং ইউজার অ্যাকাউন্ট কন্ট্রোল ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। উইন্ডোজ ৭ উন্ডোজের জনপ্রিয় সংস্করণের একটি।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (4)

উইন্ডোজ ৮-এ উইন্ডোজের পরিচিত ইন্টারফেসের ডিজাইনে একটি ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। মাইক্রোসফট স্টার্ট মেনু সরিয়ে ফেলে ফুলস্ক্রিন স্টার্ট স্ক্রিন চালু করে। ডেস্কটপের পুরনো অ্যাপগুলোকে সরিয়ে পুনঃনকশাকৃত মেট্রো অ্যাপ চালু করা হয়। এই অপারেটিং সিস্টেম চালুর মাধ্যমে মাইক্রোসফট টাচ স্ক্রিন এবং এবং ট্যাবলেট পিসির দিকে গুরুত্ব দেয়। তবে ব্যবহারকারীদের কাছে এর পুনঃনকশা একটু হলেও উইন্ডোজের চূড়ান্ত রূপ দেখিয়ে দেয়। আর মাইক্রাসফটকে উইন্ডোজের ভবিষ্যত সম্বন্ধে পুনরায় চিন্তা করতে হয়।

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (2)

আবারো স্টার্ট মেনুতে ফিরে আসা: উইন্ডোজ ১০ আবারো সেই স্টার্ট মেনু নিয়ে আসে। আর এটি কিছু নতুন ফিচার যেমন: কর্টানা, মাইক্রোসফট এজ এবং টিভিতে স্ট্রিমিং হওয়া এক্সবক্স ওয়ান নিয়ে আসে। হাইব্রিড ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেটের জন্য উপযুক্ত করেই এটির নকশা করা হয়। মাইক্রোসফট উইন্ডোজকে একটি সার্ভিস মডেল হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এবং ভবিষ্যতে এর আরও আপডেট আসতে থাকবে।

সূত্র: দ্য ভার্জ