সুপ্রিয় যুগটেক কমিউনিটি, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭ কিংবা ৮.১ থেকে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করার পর পুনরায় ডাউনগ্রেড করার উপায় সম্বলিত আমার আজকের পোস্ট

উইন্ডোজ ১০ এর উন্মাদনায় রিলিজ হওয়া মাত্রই সেটার পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ ইফেক্টের কথা চিন্তা না করেই অনেকে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করে ফেলেছেন। কিংবা এখনো আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু অনেক কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম ভালোভাবে চলছে না। এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষের যে সমস্যাটি প্রথম হচ্ছে সেটা হলো গ্রাফিক্স ড্রাইভারে সমস্যা। কেন জানিনা, আগের গ্রাফিক্স ড্রাইভারগুলো উইন্ডোজ ১০ এ সাপোর্ট করছে না। আমার পিসিতে আমি সফলভাবে গ্রাফিক্স ড্রাইভার ইনস্টল করতে পারলেও আমার বন্ধুদের কম্পিউটারে কোন ভাবেই কাজ করছে না। উইন্ডোজ ১০ রিলিজ হওয়ার পরেই এ বিষয়ে সুযোগ সুবিধা, ডাউনলোড একটিভেশন নিয়ে আমি প্রায় ৩টি পোস্ট করি যেগুলো এখনো যুগটেক হট পোস্ট এ স্থান করে আছে। এই সুবাদে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীদের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো জানার এবং বুঝার সুযোগ হয়েছে। যে সমস্ত কম্পিউটারের জন্য উইন্ডোজ ১০ কম্প্যাটিবল না সেসব কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ কখনোই স্মুথলি চলবে না। মাঝে মাঝে হ্যাং হয়ে যাবে, স্টার্ট হতে সময় নিবে, রিস্টার্ট দিলে স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে যাবে কিংবা ব্লু হয়ে যাবে। এখন তাহলে উপায় কী হবে? মাইক্রোসফট এর যদিও এটা সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম এবং ধারনা করা হচ্ছে এ যাবত কালের সর্বশ্রেষ্ঠ কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে উইন্ডোজ ১০ তবুও অনেকের কাছেই এটা বেশি ভালো লাগছে না। কারন আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করি কাজ করার জন্য। যদি সেই ক্ষেত্রে আমাদের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য হাসিল না হয় তাহলে ইউজার ইন্টারফেইস কিংবা সৌন্দর্যের কারনে আমরা নিশ্চয় উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করবো না। এই ক্ষেত্রে আপনি যদি উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করতে না চান তাহলে মাইক্রোসফট আপনাকে আগের অপারেটিং সিস্টেমে ডাউনগ্রেড করার সুযোগ দিচ্ছে। এই সুযোগ কেবল তারাই পাবেন যারা ফ্রেশ ইনস্টলের পরিবর্তে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড করেছেন। কিন্তু যারা ISO বুটেবল করে ফ্রেশ ইনস্টল করেছেন তারা এই সুযোগ পাবেন না। উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেডেশনের এক মাসের মধ্যে (তবে দশদিনের বেশি হলে একটু সমস্যা হতে পারে) আপনারা চাইলে আবার পুর্বের উইন্ডোজ এডিশনে ফিরে আসতে পারবেন। চলুন তাহলে দেখে নেই কীভাবে কাজটা করবেন।

উইন্ডোজ ১০ থেকে আগের ভার্সনে ডাউনগ্রেড

উইন্ডোজ ১০ হলো এ যাবত কালে মাইক্রোসফট এর যতো অপারেটিং সিস্টেম বের হয়েছে সবগুলোর আল্টিমেট ভার্সনের একটা সম্বলিত অপারেটিং সিস্টেম। অধিকাংশ প্রযুক্তিপ্রেমিদের এটি মন কেড়েছে। তবুও নতুন অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে কিছু অসুবিধা এখনো হচ্ছে তবে সুবিধার তুলনায় অসুবিধাগুলো এতোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। যাহোক, ডাউনগ্রেড করার জন্য আপনার পিসির ন্যুনতম যে যোগ্যতা লাগবে সেটা আগে জেনে নিন।

ডাউনগ্রেড (1)

 

ডাউনগ্রেড করতে যা কিছু প্রয়োজন

  • আপনি যখন উইন্ডোজ ৭ কিংবা ৮.১ অপারেটিং সিস্টেম হতে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করেছেন তখন আপনার সিস্টেম ড্রাইভে নিশ্চয় Windows.old নামের একটি ফোল্ডার দেখেছেন? এটি হলো আপনার আগের অপারেটিং সিস্টেমের ব্যাকআপ। যদি উইন্ডোজ ১০ থেকে আগের অপারেটিং সিস্টেমে ব্যাক করতে চান তাহলে পিসিতে এই ফোল্ডারটি থাকতে হবে।
  • ডাউনগ্রেড প্রক্রিয়া অবশ্যই আপগ্রেড করার এক মাসের মধ্যে করতে হবে। না হলে কোন কাজ হবে না।

আপনি চাইলে নতুন করে আবার আগের অপারেটিং সিস্টেম ফ্রেশলি ইনস্টল করতে পারবেন কিন্তু ডাউনগ্রেড কেন করবেন? ডাউনগ্রেড করার ফলে আপনার কী কী সুবিধা হবে সেটা জানতে মন চাইছে নিশ্চয়। তবে চলুন ডাউনগ্রেড করার সুবিধাগুলো জেনে নেই।

ডাউনগ্রেড করার সুবিধাগুলো

  • যখন আপনি উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করেছেন তখন নিশ্চয় দেখেছেন নতুন করে আপনাকে কোন প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে হয়নি। আগে যে সমস্ত প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছেন সেগুলোই উইন্ডোজ ১০ এ চলে এসেছে। এবারও ডাউনগ্রেড করার ফলে আপনাকে আর কষ্ট করে নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে হবে না।
  • তবে যেহেতু উইন্ডোজ ১০ এবং উইন্ডোজ ৭ কিংবা ৮.১ এর ইন্টারফেইস এবং সেটিংসগুলো আলাদা তাই আগের মতো ব্যবহার করতে চাইলে কিছু সেটিংস আপনার নিজের মতো করে পরিবর্তন করা লাগতে পারে।

যেভাবে ডাউনগ্রেড করবেন

ডাউনগ্রেড প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলোর ব্যাক আপ নিয়ে নিন। এবং ব্যাকআপ ফাইলগুলো কম্পিউটারের সিস্টেম ড্রাইভ বাদে অন্য ড্রাইভে সংরক্ষণ করুন। এবং আবারও বলছি ডাউনগ্রেড করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার কম্পিউটারের সিস্টেম ড্রাইভে আগের উইন্ডোজ এর Windows.old ফোল্ডারটি আছে কিনা। সব কিছু ঠিক থাকলে এবার ডাউনগ্রেড করার পালা। নিচে স্টেপ বাই স্টেপ প্রত্যেকটি প্রক্রিয়া দেখানো হলো। মনোযোগ সহকারে দেখুন এবং নিজে চেষ্টা করুন। সফলতা আসবেই।

  • প্রথমে নিচের চিত্রের মতো কম্পিউটারের স্টার্ট মেনুতে ক্লিক করুন এবং সেখান থেকে সেটিংস অপশনটি নির্বাচন করুন।

ডাউনগ্রেড (2)

 

  • এবার নিচের চিত্রের মতো সেটিংস উইন্ডো আসলে সবার শেষের Update & Security অপশনটি ক্লিক করুন।

ডাউনগ্রেড (3)

 

  • এবার বামপাশের প্যানেল থেকে রিকোভারি অপশনটিতে ক্লিক করলে Go Back To Windows X (7/8/8.1) দেখতে পাবেন। আপনি উইন্ডোজ এর যে ভার্সন থেকে আপগ্রেড করেছেন সেই ভার্সনের নাম এখানে প্রদর্শিত হবে। আপনি শুধুGo Back To Windows X (7/8/8.1) এর নিচে লেখা Get Started অপশনে ক্লিক করুন।

ডাউনগ্রেড (1)

 

  • আপনার সামনে এবার নিচের চিত্রের মতো উইন্ডো আসবে। সেখানে মাইক্রোসফট এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হবে যে, কেন আপনি ডাউনগ্রেড করতে চাচ্ছেন? আপনি যে কারনে ডাউনলোড করতে চান সেটা উল্লেখ করুন এবং নেক্সট বাটন চাপুন। এই প্রক্রিয়াটি মাইক্রোসফটকে তাদের প্রোডাক্টগুলোকে নিখুঁত করতে সাহায্য করবে।

ডাউনগ্রেড (4)

 

  • ডাউনগ্রেড প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বে আপনি বিভিন্ন সময়ে এটাকে বাতিল করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই ডাউনগ্রেড করতে চান তাহলে শুধুমাত্র নিচের উইন্ডো আসা মাত্রই নেক্সট বাটন চাপুন।

ডাউনগ্রেড (5)

 

  • দশ মিনিটের মধ্যেই ডাউনগ্রেড প্রক্রিয়া শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে কখনোই কম্পিউটারকে বন্ধ করবেন না। আর যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের ল্যাপটপকে অবশ্যই এই সময়ে পাওয়ার কানেকশন দিয়ে রাখতে হবে। না হলে ডাউনগ্রেড প্রক্রিয়া কাজ করবে না। সবশেষে দেখুন আপনার কাঙ্খিত আগের উইন্ডোজ ভার্সন চলে এসেছে। যেহেতু আমরা উইন্ডোজ ৮.১ এ ডাউনগ্রেড করেছি সেহেতু এখানে উইন্ডোজ ৮.১ দেখা যাচ্ছে।

ডাউনগ্রেড (2)

 

  • ডাউনগ্রেড এর পর অধিকাংশ প্রোগ্রামগুলোকে আপনি আগের মতো পাবেন। কিন্তু শুধুমাত্র টাস্কবারে থাকা উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার কাজ করবে না। এক্ষেত্রে শুধু টাস্কবার থেকে এক্সপ্লোরারকে আনপিন করে দিন। এবং এরপর পুনরায় সেটাকে পিন করে নিন। এবার কম্পিউটারকে রিস্টার্ট দিন তাহলে পুরোপুরি ভাবে আগের ভার্সন ফিরে পাবেন।

উইন্ডোজ ১০ রিলিজ হওয়ার পরদিন আমি পিসিতে ISO ফাইলের মাধ্যমে এটাকে ফ্রেশলি ইনস্টল করেছি। এরপর অফিস ২০১৬ এর সাথে উইন্ডোজ ১০ কে অনেক বেশি স্মুথ এবং সুন্দর মনে হচ্ছে। যদিও কিছু কিছু সমস্যা ফেইস করছি তারপরেও সব মিলিয়ে অপারেটিং সিস্টেমটি একেবারে মন্দ না। উইন্ডোজ ১০ সম্পর্কে এটি আমার ৪র্থ পোস্ট। সামনে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারের এক্সপেরিয়েন্স, কী কী সুবিধা পেলাম আর কী অসুবিধা হচ্ছে এটা নিয়ে আরও একটি পোস্ট করে উইন্ডোজ ১০ সম্পর্কিত স্পেশাল পোস্টগুলোর সমাপ্তি ঘোষণা করবো। আমার আগের পোস্টগুলো নিচের লিংকগুলো দেখে নিতে পারেন।

পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে অথবা বুঝতে যদি কোন রকম সমস্যা হয় তাহলে আমাকে টিউমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। কারন আপনাদের যেকোন মতামত আমাকে সংশোধিত হতে এবং আরো ভালো মানের পোস্ট করতে উৎসাহিত করবে। আর পোস্টটিকে মৌলিক মনে হলে এবং নির্বাচিত পোস্ট হওয়ার উপযুক্ত মনে হলে নির্বাচিত পোস্ট মনোনয়ন দিতে ভুলে যাবে না যেন। সর্বশেষ যে কথাটি বলবো, আসুন আমরা কপি পেস্ট করা বর্জন করি এবং অপরকেও কপি পেস্ট পোস্ট করতে নিরুৎসাহিত করি। সবার সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। দেখা হবে আগামী টিউনে।