পৃথিবীর সব থেকে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল সার্ভারে সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর মাধ্যমে গুগলের সিঙ্গাপুর অফিস থেকে সরাসরি এ সেবা পাওয়া যাবে। এ জন্য সাবমেরিন ক্যাবলের ভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিতে হবে বিটিসিএলকে।  এছাড়া সুইচড রুমের জন্য ব্যয় হবে ৪ লাখ টাকা। গুগল সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বিটিসিএলের আইআইজির বর্তমান এসটিএম-১-এর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে এসটিএম-৪-এ উন্নীত করা হবে। ফলে বিটিসিএলের ঢাকা সার্ভারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের তুয়াসে অবস্থিত গুগল সার্ভারে আরও দ্রুত প্রবেশ করতে পারবেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ ফোরের (সি-মি-উই-৪) মাধ্যমে এ সংযোগ স্থাপিত হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আরো দ্রুত গুগল সার্ভারে প্রবেশ সম্ভব হবে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে।
বিটিসিএল বলছে, বেসরকারী অনেক ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানেরই সিঙ্গাপুরের গুগল সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি সাবমেরিন কেবল সংযোগ রয়েছে। তাদের সংযোগ ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভার ঘুরে তারপর বিটিসিএলের গ্রাহকরা গুগল সার্ভারে প্রবেশ করেন। এবার বিটিসিএল গুগল সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে যাচ্ছে। সরাসরি সার্ভারে সংযোগ স্থাপন হলে বিটিসিএলের ব্যয় অনেকাংশে কম হবে। ব্যান্ডউইথের জন্য একটি সিনক্রোনাস ট্রান্সপোর্ট-৪ (এসটিএম) স্থাপন করতে হবে। যন্ত্রটি স্থাপন করার সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, সরাসরি সার্ভারে সংযোগ স্থাপন হলে বিটিসিএলের ব্যয় অনেকাংশে কমবে। এ সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি সিনক্রোনাস ট্রান্সপোর্ট-৪ (এসটিএম) মানের ব্যান্ডউইডথের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত বছর ২৫ মার্চ দরপত্র জমা দেয়ার সময় শেষ হয়। সিঙ্গাপুরের সিংটেল, ইতালিক টেলিকম ইতালিয়া ও ভারতের টাটা টেলিকম নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়।
উল্লেখ্য, পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন), আইআইজি, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) লাইসেন্স রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের। এর মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে পিএসটিএন ইন্টারনেট সেবাও চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। গ্রাহকদের টেলিফোন সংযোগ নির্ভর ডায়াল-আপ ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে বিটিসিএল। এর মধ্যে ‘ক্লিক টু নেট’ নামে ডায়াল-আপ এবং ‘বিকিউব’ নামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেয়া হচ্ছে। এডিএসএল (এসিমেট্রিক ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার লাইন) মডেমের মাধ্যমে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন গ্রাহকরা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গুগলের সেবা দ্রুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত বছরের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো ডাটা সেন্টার স্থাপন এই টেক জায়ান্ট। তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরে দুইটি ডাটা সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে এশিয়া অঞ্চলে আরও দ্রুত সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গুগল। পাশাপাশি এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছে তারা। এশিয়ায় ডাটা সেন্টার স্থাপন প্রসঙ্গে গুগল তাদের নিজস্ব ব্লগপোস্টে জানিয়েছে, এশিয়া অঞ্চলে দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে। ইউরোপ বা আমেরিকা অঞ্চলের চাইতেও এই গতি কয়েকগুণ বেশি। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এশিয়ার প্রায় ৬০ মিলিয়ন মানুষ কেবল মোবাইল ইন্টারনেটে যুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করে গুগল জানিয়েছে, অনলাইনে এশিয়ার মানুষদের এই দ্রুত বৃদ্ধি সহসাই কমবে না এবং ভবিষ্যতেও আরও বেশি মানুষ এই অঞ্চল থেকে ইন্টারনেটে যুক্ত হবে বলে আশা করছে তারা।
নতুন দুই ডাটা সেন্টারের মধ্যে তাইওয়ানের ডাটা সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে রাজধানী তাইপে থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত চ্যাংহুয়া কাউন্টিতে। ১৫ হেক্টর জায়গার উপর স্থাপিত এই ডাটা সেন্টারটি এশিয়ার দুইটি ডাটা সেন্টারের মধ্যে বৃহত্তর। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম আয়তনের সিঙ্গাপুরে জন্য গুগল প্রথমবারের মতো বহুতল ডাটা সেন্টার স্থাপন করেছে।
আর এই ডাটা সেন্টার ডিজাইনে থিম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে রোবটকে। এর জন্য এই ডাটা সেন্টারে একজন থাই শিল্পীকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৪০০ কেজি ওজনের রোবট, যা নির্মিত হয়েছে ফেলে দেওয়া সব উপকরণ দ্বারা। গুগল আশা করছে, নতুন এই দুই ডাটা সেন্টার এশিয়ায় তাদের কর্মকাণ্ডকে আরও নির্বিঘ্ন করবে। তারই অংশ হিসেবে তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে গুগল।

গুগল সার্ভারে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ,google,গুগল নিউজ,গুগল খবর,গুগল,Google,btcl,বিটীছি-এল,Google Server,ইন্টারনেট,internet,business