ফেসবুক বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট। বর্তমানে এই ফেইসবুক খারাপভাবে ব্যবহার হচ্ছে। তাই আমাদের ফেসবুক ব্যবহারের সতর্কতা সমূহ জানতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চলতে হবে। ফেইসবুকের ফেক আইডি দ্বারা যেকোনো মানুষকে ব্লাকমেইল করা যায় এবং করা হচ্ছে। অনেকের কাছে নিজস্ব একটি ফেইসবুক একাউন্ট ছাড়াও এক বা একাধিক ফেইক একাউন্ট আছে। আর তারা ছেলে হয়ে প্রোফাইলে মেয়েদের নাম লিখে এবং মেয়েদের ছবি আপলোড করে এতে অনেকে তাদেরকে মেয়ে মনে করে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করলে এসব বিরক্তকর কারণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আপনার ফেসবুককে কিভাবে আপনি ব্যবহার করবেন তার কিছু কৌশল জানা থাকলে আপনাকে কখনও বিভ্রান্তিকর অবস্থায় বা অসুবিধায় পড়তে হবে না। ফেসবুক ব্যবহারের কিছু  গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জেনে নিন –

ফেসবুক ব্যবহারের সতর্কতা

ফেসবুক ব্যবহারের সতর্কতা

১. বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েদের ছবি ফেসবুকে দেয়ার আগে সতর্ক থাকুন। পাবলিক নয়, শুধুমাত্র বন্ধুরাই যেন সেই ছবি দেখতে পায় এমনভাবে প্রাইভেসি সেভ করুন।

২.  খুব ব্যক্তিগত কোন তথ্য ফেসবুকে দেবেন না। আপনার বাড়ির ঠিকানা, মোবাইল বা বাড়ির ল্যান্ডলাইন নম্বর, আপনার জন্ম তারিখ ফেসবুকে না দেয়াই ভালো।

৩. কখনই ভাববেন না আপনার ফেসবুক প্রোফাইল শুধুমাত্র আপনিই দেখছেন। বিশ্বজুড়ে হাজারো মানুষ, সব শ্রেণীর মানুষের কাছে আপনার প্রোফাইল নানান তথ্য বিতরণ করছে। আপনার পোস্ট চলে যাচ্ছে এমন অনেক মানুষের কাছে যাদের হয়তো আপনি চেনেনও না। তাই সবসময় কি করছেন, কোথায় যাচ্ছেন-যাবতীয় তথ্য ফেসবুকে না দেয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ। গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে শুধু আপনার নাম টাইপ করলেই ফেসবুকের মাধ্যমে সবার কাছে আপনার যাবতীয় তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে।

৪. বাড়িতে বা অফিসে নিজের কম্পিউটারে ফেসবুক প্রোফাইল খুলে রেখে কোথাও যাবেন না। অবশ্যই লগ আউট করবেন। আপনারই কোনো সহকর্মী আপনার অ্যাকাউন্টকে নানান বাজে কাজে ব্যবহার করতে পারে যা আপনি জানতেও পারবেন না।

৫. কোনো অচেনা প্রোফাইল থেকে পাওয়া ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যকসেপ্ট না করাই ভালো। আপনি হয়তো জানেনও না যে আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে সে আসলে কে? শুধুমাত্র সুন্দরী মেয়ে বা মিষ্টি দেখতে কোনো ছেলের ছবি প্রোফাইল পিকচারে দেখে রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলে বোকামি করবেন। আজকাল অনেক দুষ্কৃতিকারীও ফেসবুকে প্রোফাইল বানিয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জানার চেষ্টা করছে অবিরাম।

৬. ‘বাড়িতে একা রয়েছি’-জাতীয় পোস্ট করবেন না কখনই।

৭. ফেসবুক একটি সোশাল মিডিয়া। আপনাকে জীবনের যাবতীয় তথ্য ফেসবুকে না দিলেও চলবে। আপনার দুধের দাঁত কবে ভাঙলো বা আপনার প্রেমিকা অন্য কোনো ছেলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনাকে না জানিয়ে- এই জাতীয় পোস্ট না দেয়া উচিৎ।

৮. ছেলেমেয়েদের বয়স অন্তত ১৩ না হলে ফেসবুক প্রোফাইল না খোলাই ভালো।

৯.  বাড়ির বা অফিসের কম্পিউটারকে সবসময় অ্যান্টি ভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করান। অ্যান্টি ভাইরাস আপডেট করুন।

১০. নিজের মোবাইলসহ অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে সিকিওর রাখুন। নিজের মোবাইল ফোন অন্যের হাতে দেবেন না। ফেসবুকে লগ ইন করে যে কোনো অ্যাপস ব্যবহার করার পর অবশ্যই লগ আউট করবেন।

উপরের কথাগুলো শুধু যে ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন তা কিন্তু নয়। পৃথিবীতে যত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপরোক্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে আপনি সচেতন থাকুন। যাতে করে কখনও কোন সমস্যায় না পড়তে হয়। ধন্যবাদ সবাইকে ।

2 COMMENTS